নিজস্ব প্রতিবেদক
শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু হয়েছে বগুড়ায় হাট-বাজারগুলোতে। জেলার সর্ববৃহৎ মহাস্থান কাঁচা বাজারে এখন শীতকালীন সবজির পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলার বৃহৎ মহাস্থানগড় সবজি বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে সাজিয়ে রাখা আছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাটা ও বাঁধাকপি।
সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার হাট ছাড়াও প্রতিদিন সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলাসহ আশ-পাশের এলাকার কৃষকরা এ বাজারে তাদের জমির উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে আসেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এ হাটে সবজি কিনতে আসেন। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, মূলা, বেগুন, করলা, পেঁপে, লাউসহ সব ধরনের সবজি দেখা মিলে বাজারটিতে। সবজিগুলো ক্ষেত থেকে তুলে কৃষক সরাসরি বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে এসেছেন।
আজ বগুড়া বাজারে আলু ৩৮ টাকা কেজি, বেগুন ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকা, শুকনো মরিচ ২৭০ টাকা, মূলা ৪৫ টাকা, গাঁজর ৭০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, টমেটো ৪৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৭২ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১২০ টাকা, বাধাকপি ৩০ টাকা পিস, পালং শাক ৫০ টাকা, লাল শাক ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ টাকা, শসা ৫০ টাকা, আদা ৯০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫ টাকা ও ছাচি লাউ ৩০ পিস পাইকারি দরে বেচাবিক্রি হচ্ছে। যা স্থানীয় খুচরা বাজারে এসে কেজিপ্রতি ৫-১৫ টাকা বেড়ে যাচ্ছে।
ইমাম আলী, গোলজার, শাজাহান, ইয়াসিনসহ একাধিক কৃষক বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এখানে নিয়মিত আসেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে বড় পাইকাররাও কেনাকাটার জন্য এ মোকামের ওপর নির্ভরশীল। বগুড়া জেলার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মহাস্থানগড় কাঁচা বাজার সবজির সবচেয়ে বড় মোকাম। তারা আরও জানায়, আবহাওয়া উপর শীতকালীন সবজির আবাদ নির্ভর করে। এবার মোটামুটি আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারেও সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দামও বেশ ভালো। সবমিলিয়ে এ মোকামে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ সবজির আমদানি ঘটাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপতরের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুর রহমান জানান, বগুড়াকে সবজিখ্যাত জেলা বলা হয়ে থাকে। এ জেলার কৃষকের উৎপাদিত সবজি পাইকারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে থাকে।
তিনি জানান, আগস্ট মাস থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে চাষাবাদকে আগাম চাষ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। জেলায় এ পর্যন্ত গড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে রবি মৌসুমের শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে। এ বছর পুরো রবি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৮১৩ হেক্টর জমিতে রকমারি সবজি চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে আগাম চাষাবাদের সবজিতে বাজারগুলো ভরে উঠেছে। বাজার মূল্য ভাল থাকায় এ ফলনে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। শীতকালীন আগাম চাষাবাদে কৃষক বরাবরি লাভবান হয়ে থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






















