আন্তর্জাতিক ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৩১

ইসরায়েলে পতনের মুখে নেতানিয়াহুর একক আধিপত্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

ইতিমধ্যে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গানৎজ সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছেন। গানৎজ এতে সফল হলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী কট্টর ইহুদিবাদী নেতানিয়াহুর পতন হবে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট সরকার গঠন করতে পারেনি। তাই গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবারও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এই নির্বাচনেও কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। 

১৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ৩২টি আসন পেয়েছে। আর দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান গানৎজের ‘ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট’ পার্টি পেয়েছে ৩৩ আসন। ১২০ আসনের পার্লামেন্টের নেসেটে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬১ আসন। তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’। আয়মান ওদেহর নেতৃত্বাধীন এই জোটের আসনসংখ্যা ১৩টি। এর বাইরে শাহস ৯, ইসরায়েলি বেইতেইনু ৮, ইউটিজে ৭, ইয়ামিনা ৭, লেবার-গেসার ৬ ও ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন ৫টি আসন পেয়েছে। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাওয়া আসনের চেয়ে এবার নেতানিয়াহুর দলের আসন কমেছে ছয়টি। গানৎজের দলের আসন কমেছে দুটি। আর জয়েন্ট লিস্টের আসন বেড়েছে তিনটি।

নির্বাচনের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন প্রথমে নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু ব্যর্থ হওয়ার পর ২৩ অক্টোবর গানৎজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন গানৎজ। ইতিমধ্যে সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন তিনি।

গাৎনজের সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এর সমর্থন। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানা যায়, জয়েন্ট লিস্ট সরকার গঠনের জন্য গাৎনজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন পেল ইহুদি কোনো প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী। এই সমর্থনের ব্যাপারে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে মতামত কলামে জয়েন্ট লিস্টের নেতা আয়মান ওদেহ বলেন, ‘নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্ব ঠেকাতে এই পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর রাজনীতিরও ইতি ঘটবে।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহু ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে ৫৫টি আসন জোগাড় করতে পেরেছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আর ছয়টি আসন কোনোভাবেই জোগাড় করতে পারেননি। এটাও আশার কথা গানৎজের জন্য। কারণ নেতানিয়াহুকে সমর্থন না দেওয়া পার্লামেন্টের বাকি ৬৫ আসনের নেতাদের সমর্থন আসার সম্ভাবনা গানৎজের দিকেই। এর মধ্যে নিজ দলে ৩৩ ও জয়েন্ট লিস্টের ১৩ আসন মিলে ৪৬ আসন নিশ্চিত হয়েই আছে।

কিন্তু গানৎজ যদি নেতানিয়াহুকে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিতে পারেন, তাতে ফিলিস্তিনিদের কি কোনো লাভ বা ক্ষতি হবে? ফিলিস্তিন নিয়ে তাঁদের অবস্থান কী? রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নেতানিয়াহুকে ডানপন্থী ও ইহুদিবাদী, সেই তুলনায় গানৎজকে মধ্যপন্থী বলে বিবেচনা করা হয়।

আর গানৎজও যদি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে এক বছরেই তৃতীয়বারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনকে।