আমাদের কাগজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার নতুন করে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ দুপুর ১২টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) এর বিদ্যুতের পাইকারি (বাল্ক) মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে ১৩ অক্টোবর ২০২২ তারিখের বিইআরসি আদেশ নম্বর : ২০২২/১৯ পুনর্বিবেচনা সংক্রান্ত কমিশন আদেশ আগামী ২১ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টায় কমিশন ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করবে।
বর্তমানে সরকার পাইকারি রেটে ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ৩৯ পয়সা ভর্তুকি দিচ্ছে। পাইকারি রেটে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ১৭ পয়সায় বিক্রি করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।
তথ্য মতে, মাস দুই আগে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৫১ শতাংশের ওপরে বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু নানা সমালোচনার মুখে ৫ শতাংশ কমানো হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসছে আজ।
বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, পিডিবি চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়। এর পর ১৮ মে তাদের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। ওই সময় কমিশন দাম না বাড়ালেও ঘোষণায় ছিল, এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে চাইলে পিডিবি রিভিউ করতে পারবে। পরে পিডিবি গত সপ্তাহে আবারও দাম বাড়াতে রিভিউ আবেদন করে। তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিইআরসি। এক মাস
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে পিডিবির ৬৫.৫৭ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৮ মে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে গড়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শুনানির রায় ঘোষণা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ১৩ অক্টোবরের মধ্যেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু এর ১ মাস ৮ দিনের মাথায় বিইআরসি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। আজ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
বিইআরসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিশন ১৫-২৫ শতাংশের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করে রেখেছে। এরই মধ্যে তা বিদ্যুৎ বিভাগে জমাও দেয়া হয়েছে। সরকার চাইলে এটি কিছুটা বাড়াতে বা কমাতেও পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার কতটা ভর্তুকি দেবে তার ওপর নির্ভর করবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর হার।
বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পাঁচ টাকা ১৭ পয়সা। গত ১৮ মে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ইউনিটপ্রতি ৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে আট টাকা ৫৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল পিডিবি। তবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ব্যয়বহুল বলে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে, একই কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ। এখনতো বিদ্যুতের দাম কমানো উচিত। পাইকারি দাম বৃদ্ধিকে কোম্পানিগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
সাধারণত সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাণকে বিবেচনায় নিয়ে বিতরণ কোম্পানির রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়। সরবরাহকৃত বিদ্যুতের দামের সাথে বিতরণ কোম্পানির পরিচালন ব্যয় যোগ-বিয়োগ করে খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দেয়ায় বিতরণ কোম্পানিগুলো রাজস্ব কমে গেছে। পাইকারি দাম বৃদ্ধি পেলে সেই সুযোগে কম উৎপাদনকে সামনে এনে বেশি করে দাম বৃদ্ধির চাইবে, যা কৌশলগতভাবে উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে না। ফলে গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কোনো উপায় থাকবে না বলে তারা মনে করছেন।
বিদ্যুতের একক পাইকারি বিক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। নিজেরা উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে। ৫টি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে আসছে। আর নিজেরা ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণ করে যাচ্ছে।
আমাদের কাগজ/এম টি



















