রাজনীতি ২৬ মে, ২০২৬ ০৯:১৯

সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী

‘আগে পুলিশ লীগ দেখেছি, এখন পুলিশ দল দেখছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহে নিজেদের ওপর হামলায় রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “যারা আমাদের উপর আক্রমণ করেছিল আমরা ধারণা করেছিলাম তিনটি বাহিনী। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি। কিন্তু ঐদিন আমরা আবিষ্কার করতে সক্ষম হলাম, তাদের সাথে আরেকটি বাহিনী আছে সেটা হল পুলিশ দল। যেটা আমরা আগে দেখেছিলাম, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ, পুলিশ লীগ। এখন পুলিশ দল হয়েছে। তারা একসাথে যৌথভাবে আমাদের উপরে হামলা করেছে।”

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, গত জুমার নামাজ পড়তে ঝিনাইদহে গেলে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আমার ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। একটি ডিম চোখে আঘাত করলে কিছু সময় অন্ধকার দেখেছি। পরে তাকে ঘুষি মারা হয় এবং ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এ সময় আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, ঘটনার পর বিচার চাইতে থানায় গেলে প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। থানার বিদ্যুৎ ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা থানা ত্যাগ করেন। রাতের বেলায় বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। মামলা নেওয়ার পর রাতেই প্রায় হাজার তিনেক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লাঠিশোটা নিয়ে থানায় এসে গেট ভাঙ্গা তারা শুরু করে। তখন আমি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম যে, প্লিজ সেভ আস। আমি কালেমা পড়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ওই পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পুলিশ হামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছে এবং তাদের ওপর পুনরায় হামলার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমরা ওই সময় বাহিরের যে চিত্রটা দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের পরে আমরা রক্ষী বাহিনীর কথা নাম শুনেছিলাম, তাদের বর্বরচিত ইতিহাসের কথা আমরা পড়েছি বইয়ে। কিন্তু যদি সচক্ষে দেখার সুযোগ, সেটা হলো আমরা গোপালগঞ্জে দেখে এসেছিলাম আর ঝিনাইদ হতে দেখে এসেছিলাম। হামলা, অস্ত্রশস্ত্র একই কায়দা, শুধু এটা দলের মধ্যে পার্থক্য।”

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা যখন ঝিনাইদহ থেকে চলে আসি, এরপরে অয়ন নামে যুবশক্তির একজন নেতা, যার বাবা স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সে বাবার পাশে গিয়েছে। রাতের বেলায় তাকে সেখান থেকে ডিবি তুলে নিয়ে আসে। আশিক নামে একটা ছেলে তাকে ডিবি তুলে নিয়ে এসে রিমান্ডে নিয়ে যায়। প্রত্যেকটা ঝিনাইদহে যারা ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, এনসিপি সাধারণ মানুষ, পাকিস্তান আমলে যেমন দরজায় ঠকঠক করতো রাতের বেলায়, যারা ঘরে মা-বোনরা রয়েছে, এই ধরনের ঠকঠকের আওয়াজ এখন শুনতে পাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ইতিমধ্যে একটা ভিডিও শেয়ার করেছি যে পুলিশ কিভাবে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকার জঙ্গল সলিমপুরকে যৌথ বাহিনী দিয়ে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশ মিলে তারা নব্য একটি আইনের শাসনকে ব্যতয় করে জঙ্গি শাসন কায়েম করেছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গতকালকে আমাদের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সেখানে গিয়েছে, যারা আহত আছে তাদের সাথে কথা বলেছে। এখন পর্যন্ত আমরা সেই ধরনের আশারবাণী মানুষ থেকে শুনতে পাইনি। এখনো গ্রেপ্তার চলছে। পুরো বাংলাদেশে যদি আমরা চিত্র দেখি দেশে কোন আইনের শাসন নাই, দেশে একটি জঙ্গলি শাসন চলছে এবং দেশে একটি বাহিনী রক্ষী বাহিনীর ভূমিকায় অবর্তিত হয়েছে।”

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তদন্ত কোথায়, বরঞ্চ তাকে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিলেন বানানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা খুবই উদ্বিগ্ন দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। আমরা মনে করি সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের উপরে কোন কন্ট্রোল নাই। পিছনে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে তিনটা প্যাকেজ ছিল নির্বাচন, সংস্কার, বিচার এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়া। কিন্তু এখনো মাঠে সরকারের মদদে তারা মিছিল করছে, হামলা চালাচ্ছে। সরকার তাদের বিচার না করে জামিন দিয়ে দিচ্ছে। সংস্কারের কথা বললে সরকার নার্ভাস হয়ে পড়ে, হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে।”

তিনি বলেন, “আমাদের সহযোদ্ধাদের তুলে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলা বন্ধ করুন। আমার একটা ফ্যামিলি ক্যামেরা নিয়ে গেছে, যেখানে আমার ফ্যামিলির ছবি ছিল। দিনের বেলায় মিডিয়ার সামনে অস্ত্র ঠেকিয়ে সেটা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, আপনি কিছু না পারেন, আমার ক্যামেরাটা একটু দেন। সহযোদ্ধাদের মুক্তি দিন এবং ঈদের আগে তাদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিন।