জেলা প্রতিনিধি
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে আয়োজিত সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল বলেছেন, জামায়াতের এই দেশে বাস করার অধিকার নেই।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল কবির বাদল। প্রধান বক্তা ছিলেন যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরদীদা খালেদ রবি।
সভাপতির বক্তব্যে ওবায়দুল কবির বাদল বলেন, দুইটা বিষয় সামনে আনা হচ্ছে—সাঈদী সাহেব রাজাকার ছিলেন না, আর মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা না, সে পরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো তো জামায়াত বর্তমানে আনেনি, এগুলো এনেছে এনসিপির কিছু লোক আর বিএনপির মধ্যে কিছু ঘুপটিমারা গুপ্ত। তারা এগুলো প্রচার করছে মাসুদ সাঈদীর কাছ থেকে টাকা এনে। এরা টাকা এনে মুক্তিযোদ্ধাদের যে অপমান করছে, এটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এগুলো সামনে এনে প্রচার করছে।
তিনি বলেন, এখন বিষয় হচ্ছে- সাঈদী সাহেব যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মারা গিয়েছেন, তা কি যুদ্ধাপরাধীর তালিকা থেকে নাম কেটে গেছে? তাকে যতদিন পর্যন্ত কোর্ট রায় না দেবে যে তিনি যুদ্ধাপরাধী নন, ততদিন পর্যন্ত সাঈদী যুদ্ধাপরাধী থাকবেন।
ওবায়দুল কবির বাদল বলেন, মানিক পশারীর ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, সে মুক্তিযোদ্ধা না। কিন্তু সে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। যতদিন পর্যন্ত এটা তার বাতিল না হবে, ততদিন পর্যন্ত সে মুক্তিযোদ্ধা। এখানে আমি ব্যক্তিগতভাবে দুই-চারজনকে চিনি, তারা মুক্তিযোদ্ধা না। তারা আমাদের ক্যাম্পের নাম বলছে, অন্যদের নাম বলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তার ভাতা বাড়ছে, তাদের সন্তান সুবিধা পাচ্ছে। কই, আমরা তো এর প্রতিবাদ করি না। পশারীর বিরুদ্ধে আপনারা লাগলেন কেন? কারণ, মাসুদ সাঈদীর টাকা।
এই মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা নামধারী মানুষ থাকবে, তারে অপমান করার ক্ষমতা কারও নাই, বিশেষ করে জামায়াতের। জামায়াতের এ দেশে বাস করার অধিকার নাই। আমি আওয়ামী লীগ করি না, কখনোই করিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটা কাজের প্রশংসা করি, যে জামায়াতকে তারা বাতিল করছিল, রাজনীতি বাতিল। অর্থাৎ তারা যখন এ দেশকে মানেই না, এ দেশে তাদের নাগরিকত্ব নাই।’
এ সময় তিনি মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি নিন্দা জানান এবং সরকারের প্রতি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্য বক্তারাও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দাবি জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।




















