সারাদেশ ১৯ মে, ২০২৬ ০৭:৩৭

বাউফলে বিএনপির বিক্ষোভে জামায়াত এমপির জনসভায় যেতে পারেননি সেতুমন্ত্রী

বরিশাল ব্যুরো ও বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি বাউফল প্রান্তের জনসভায় না গিয়ে দুমকি উপজেলার একটি সভায় বক্তব্য দেন।

মঙ্গলবার দুমকি ও বাউফলের মধ্যবর্তী লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এ উপলক্ষে পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফল প্রান্তে জনসভার আয়োজন করেন। একই সময়ে নদীর অপর প্রান্ত দুমকি উপজেলায় আরেকটি জনসভার আয়োজন করেন পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি ও বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

এলাকাবাসী জানায়, দুপুরের দিকে সেতুমন্ত্রী বাউফল প্রান্তে পৌঁছালে তাঁর গাড়িবহর জনসভার মঞ্চের দিকে যেতে চাইলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে পথ আটকে দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, সভার ব্যানারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি রাখা হয়নি। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পাল্টা স্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বাউফলের সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সেতুমন্ত্রী পুনরায় ফেরিতে করে দুমকি প্রান্তে ফিরে যান এবং সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তছলিম তালুকদার ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ দাবি করেন, “সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।”

অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুল ইসলাম বলেন, বগা সেতু একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হওয়ায় বিষয়টিকে দলীয়ভাবে উপস্থাপন করতে চায়নি জামায়াত। তাই ব্যানারে স্থানীয় এমপি ও সেতুমন্ত্রীর ছবি রাখা হলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার ছবি ব্যবহার করা হয়নি। এটিকে অজুহাত বানিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে বাধা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রায় এক হাজার মিটার দীর্ঘ নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেলেও নতুন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।