চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
দীর্ঘ দুই মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরে আটকে আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। যেখানে আছেন ৩১ জন নাবিক। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পার হতে পারছে না জাহাজটি। তবে আটকে পড়া জাহাজের ৩১ নাবিক সুস্থ আছেন। জাহাজে পর্যাপ্ত মজুত আছে খাদ্য পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
তবে জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকলেও নেই লোকসানে। বরং প্রতিদিন আয় করছে ১৬ লাখ টাকা করে। এমন তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৪২ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’’ জাহাজটি নোঙর করে আছে। হরমুজ প্রণালি যখন উন্মুক্ত করা হবে কিংবা জয়যাত্রা জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি পাবে তখন চলে আসবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা তৎপরতা চলছে। আশা করছি শিগগিরই পার হওয়ার অনুমতি মিলবে।’
বিএসসির পরিচালক বলেন, ‘জাহাজে থাকা ৩১ নাবিক সুস্থ আছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তবে জাহাজটিতে ৩৭ হাজার টন সার বহন করে আছে। হরমুজ প্রণালি পার হতে পারলে জাহাজটি লোড করা সার নিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। চুক্তি অনুযায়ী জাহাজে সার লোড করার কারণে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন বাংলাদেশি টাকায় ১৬ লাখ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে। জাহাজের ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। যতদিন আটকে থাকবে ততদিন এ টাকা পাওয়া যাবে। যে কারণে যুদ্ধের মধ্যেও জাহাজটির আয় বন্ধ হয়নি।’
এর আগে দুই দফা চেষ্টার পরও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি জয়যাত্রা জাহাজ। এর মধ্যে গত ১৭ এপ্রিল ইরান হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণার পর রাতে নোঙর তুলেছিল শারজাহ বন্দরের কাছে থাকা জাহাজটি। পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজটি আটকে দেয়।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল ভোরে যুদ্ধবিরতির পর আটকে থাকা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য নোঙর তোলে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা চলার পর ১০ এপ্রিল জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি।
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়। হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে।’
বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে নোঙর করে সেটি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়। পরে গত ১১ মার্চ জেবেল আলি বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়।
এর আগে, ২০২২ সালের ১ মার্চ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের কাছে আটকে পড়া বিএসসির জাহাজ এমভি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। পরে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিএসসি।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয় বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ৩৯ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি নির্মাণ করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে জাহাজটি কেনা হয়েছিল।




















