আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর ইউএনবি।
গোলাম মোর্তোজা জানান, ফ্লোরিডার পুলিশ বিভাগ বৃষ্টির ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। বৃষ্টির পরিবার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সমন্বয়ে মরদেহটি দেশে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে অপর নিহত শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আগামী ৪ মে (সোমবার) ঢাকায় পৌঁছাবে। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে অরল্যান্ডো থেকে দুবাই হয়ে ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
লিমন ও বৃষ্টি দুজনেই ২৭ বছর বয়সী পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউটরদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। মোবাইল ফোনের লোকেশন ও গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ এপ্রিল একটি সেতু থেকে লিমনের এবং ২৬ এপ্রিল পাশের একটি জলাশয় থেকে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার কয়েকদিন পর একটি সোয়াত টিম সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহকে তার বাবা-মায়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে আদালত তাকে জামিনহীন কারাদণ্ড দিয়েছে। হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি নির্দেশ দিয়েছেন যে, অভিযুক্ত হিশাম কোনোভাবেই ভুক্তভোগীদের পরিবার বা সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দুটি অভিযোগসহ আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।




















