আদালত প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মঙ্গলবার আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এসময় অনেক আইনজীবীদের জয় বাংলা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আজ ভোরে শারমিন চৌধুরীকে আটক করার কথা জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দুই দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করে ডিবি।
এদিন রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে চরম বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বিচারক সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। শুনানির জন্য বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে শিরীন শারমিনকে এজলাসে তোলা হয়।
শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদেশ ঘোষণার পরপরই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এজলাসের ভেতর হট্টগোল শুরু করেন। পুরো পরিস্থিতিতে বিচারককে এজলাসে নির্লিপ্তভাবে বসে থাকতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এসময় মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের এজলাস ত্যাগ করতে বলেন।
একপর্যায়ে আইনজীবীদের হট্টগোল নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে বিচারক আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তাদের এজলাস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আদালত চত্বরে জয়বাংলা শ্লোগান
মামলার শুনানি শেষে শিরিন শারমিনকে যখন আদালত থেকে হাজতখানার দিকে নেওয়া হয় তখন আদালতের বারান্দায় অনেকজন জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ ছিলেন আইনজীবী।
এদিন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালত থেকে শুরু করে কারাগারে নেওয়ার পুরো সময়টা জুড়ে তার চোখে–মুখে বিষণ্নতার ছাপ দেখা গেছে। এর মধ্যে আদালত থেকে তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অনেকজন জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন। সেই সময়েও সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে নির্লিপ্তই দেখা গেছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানির একপর্যায়ে শিরীন শারমিনের কিছু বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তার আইনজীবী। তবে আদালত কথা বলার অনুমতি দেননি। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নেওয়া হলেও অন্যান্য আসামিদের মতো তাঁর গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট কিংবা হেলমেট ছিল না।
বিষয় : শিরীন শারমিন চৌধুরী আদালত হট্টগোল জয় বাংলা






















