স্পোর্টস ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার সরাসরি শেষ ষোলোয় সরাসরি উঠতে পারেনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। ফলে খেলতে হচ্ছে প্লে-অফ। যেখানে স্বদেশি ক্লাব এএস মোনাকো’র কাছে মাত্র ৫৫ সেকেন্ডেই গোল হজম করে বসে লুইস এনরিকের দল। ১৮ মিনিটের মাথায় আবারও তারা প্রবল ধাক্কা খায়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর শুরু হয় ফরাসি জায়ান্টদের দাপট। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয়ে হাকিমি-দুয়েরা মাঠ ছাড়লেন।
গতকাল (মঙ্গলবার) প্রতিপক্ষ মোনাকোর মাঠে আতিথ্য নেয় পিএসজি। দুই গোল হজমর পর তারা প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরে। লিড হারানোর পর মোনাকো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়। বিরতির পর আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি। তাদের পক্ষে দেজিরে দুয়ে জোড়া এবং আশরাফ হাকিমি এক গোল করেছেন। বিপরীতে মোনাকোর দুটি গোলই এসেছে ফোলারিন বালোগুনের কাছ থেকে।
সবমিলিয়ৈ ৭৩ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি ২৯টি শট নেয় পিএসজি, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ১২টি। বিপরীতে স্বাগতিক মোনাকোর ৭ শটের মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে ছিল। ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা এই জয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার পথে একটু এগিয়ে গেল। এরপর আবার তারা আগামী সপ্তাহে ফিরতি লেগ খেলবে নিজেদের মাঠে। খেলা শুরুর এক মিনিট না হতেই মাঝমাঠে পিএসজির ভুলে বল পেয়ে মোনাকোর গোলোভিন ক্রস বাড়ান, কিছুটা ফাঁকায় থাকা ফেলারিন হেডে সেটি জালে জড়ান।
শুরুতেই গোল খেয়ে কিছুটা অবিশ্বাসী পিএসজি, তাদের পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও আক্রমণে ঠিক ধার ছিল না। এরপর ১৮ মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বলে দ্বিতীয় গোল করে মোনাকোর লিড দ্বিগুণ করেন ফোলারিন। অল্প সময়ের মাঝে ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল পিএসজির। খিচা কাভারাৎস্খেলিয়া ফাউলের শিকার হলে তারা পেনাল্টি পায়। কিন্তু ভিতিনিয়ার নেওয়া স্পট কিক মোনাকো গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। আর বড় হতাশা নিয়ে ২৭তম মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলেকে। বদলি নামানো হয় দুয়েকে।
মাঠে নামার মিনিট দুয়েকের মাঝেই তিনি পিএসজির হতাশা কিছুটা কমিয়েছেন। বক্সে বার্কোলার পাস পেয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়িয়েছেন দুয়ে। ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ৪১ মিনিটে আসা দ্বিতীয় গোলেও অবদান রেখেছেন। বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া জোরালো শট মোনাকো গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে হাকিমি বক্সের ভেতর থেকে শট নেন। স্কোরলাইন পরিণত হয় ২-২। স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় পিএসজি। ভিতিনিয়াকে ফাউল করে ৪৮ মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিক মিডফিল্ডার আলেকজান্ডার গোলোভিনকে।
পিএসজি জয় নিশ্চিত করা গোল পায় ৬৭ মিনিটে। বক্সে ওয়ারেন জাইরে এমেরির পাস পেয়ে নিচু শটে দুয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি পিএসজি। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে তারা মাঠ ছাড়ে।






















