জাতীয় ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:৪৫

কঠোর বন্দর কর্তৃপক্ষ: শ্রমিকদের শাটডাউন ও পুলিশের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরসংলগ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং ‘১(ক)’ শ্রেণির একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই)। দেশের মোট আমদানি ও রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কাঁচামাল পরিবহনে ৫ থেকে ৬ হাজার পণ্যবাহী যানবাহন বন্দরে চলাচল করে। ফলে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ বা মানববন্ধনের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ কারণে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ও ৩০ ধারার ক্ষমতাবলে বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ বন্দরসংলগ্ন এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও সমাবেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে, এনসিটি (NCT) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। শনিবার বন্দরে কর্মবিরতি পালনের পর রোববার বন্দর এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রশাসনিক ও অপারেশনাল উভয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চার কর্মচারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার পানগাঁওয়ে বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন— অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন, উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং এস এস খালাসী মো. ফরিদুর রহমান।

বন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া বা আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।