স্বাস্থ্য সেবা ২৯ অক্টোবর, ২০২২ ০৮:৫২

কোন ধরনের পুরুষরা বাড়তি সেক্স ক্রোমোজম বহন করেন?

আমাদের কাগজ রিপোর্ট:  একজন পুরুষের শরীরে এক্স আর ওয়াই নামক দুইটি সেক্স ক্রোমোজম থাকে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৫০০ জন পুরুষের মধ্যে একজন পুরুষ বাড়তি আরেকটি সেক্স ক্রোমোজম বহন করেন।

জেনেটিক্স ইন মেডিসিন শীর্ষক এক জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার জন্য যুক্তরাজ্যের দুই লাখ ৭০০০ মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ২১৩ জন একটি বাড়তি এক্স ক্রোমোজোম ১৪৩ জন একটি বাড়তি ওয়াই ক্রোমোজম বহন করছেন।

এদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক মানুষেরই ক্রোমোজমগত কোনো ধরনের শারিরীক অসংগতি রয়েছে। যাদের ক্রোমোজম সংখ্যা XXY, তাদের মধ্যে কেবল ২৩ শতাংশের ধরনের কোনো সমস্যা ছিল। আর XYY ক্রোমোজমধারীদের মাত্র . শতাংশের কোনো সংশ্লিষ্ট সমস্যার কথা জানা গেছে।

এর আগে ধরনের বাড়তি ক্রোমোজম থাকাকে বিরল বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু এত বেশি হারে এটি মানুষের মধ্যে রয়েছে দেখে বর্তমানে বিজ্ঞানীরাও বিস্মিত হয়েছেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী মানুষদের মধ্যে মোট .১৭ শতাংশের বাড়তি সেক্স ক্রোমোজম পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ, হার প্রতি ৫৮০ জনে এক জন। তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, সাধারণ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে হার কিছুটা কম (প্রতি ৫০০ জনে এক জন) হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে গবেষণায় যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তারা সবাই ছিলেন ইউকে বায়োব্যাংক-এর সদস্য। এটি একটি জিনগত স্বাস্থ্যবিষয়ক ডেটাবেইজ এবং এর সদস্যরা সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

বাড়তি এক্স ক্রোমোজম থাকাকে ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম (কেএস) বলা হয়। বাড়তি ক্রোমোজম থাকার ফলে শরীরে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। যেমন যেসব পুরুষের বাড়তি এক্স ক্রোমোজোম আছে, তাদের প্রজনন সম্পর্কিত সমস্যা থাকার কথা জানা গেছে। তাদের সন্তান না হওয়ার হার এক্সওয়াই ক্রোমোজমধারীদের চেয়ে চারগুণ বেশি।

অন্যদিকে বাড়তি ওয়াই ক্রোমোজম থাকা ৪৭,এক্সওয়াইওয়াই সিনড্রোম নামে পরিচিত। এটি প্রজননের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে অতীতের গবেষণা অনুযায়ী, সিনড্রোমের সাথে শেখায় প্রতিবন্ধকতা, কথা বলা মোটর স্কিল অর্জনে দেরি ইত্যাদির যোগসূত্র রয়েছে।

তবে বাড়তি ক্রোমোজোমধারীদের টাইপ টু ডায়াবেটিস, ভেনোস থ্রমবোসিস (শিরায় রক্ত জমে যাওয়া) ইত্যাদি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণায় কেবল ইউরোপের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি গবেষণাটির একটি সীমাবদ্ধতা হলেও আগেও ধরনের গবেষণা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এটির একজন সহলেখক অ্যানা মুরে।

 

 

 

 

আমাদের কাগজ/টিআর