পল্টনে পুলিশ হত্যা : গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার ৪
আমাদের কাগজ ডেস্ক: গত ২৮ আগস্ট ঢাকার পল্টন থানার সামনে বিএনপির সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজ হত্যায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। তাদেরকে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ২২ নরেভম্বর, দুপুর ১২টায় জিএমপির সদর দপ্তরের কনফারেন্স কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার হাইধন খালী গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে ইব্রাহিম (২৪), শেরপুর জেলা সদর উপজেলার চান্দের নগর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আতশ মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৪২), বরিশালের এয়ারপোর্ট থানার বকশী চর (হাওলাদার বাড়ি) এলাকার নুরুল হকের ছেলে মনির হোসেন (২৮) ও কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জানগর গ্রামের জগদীশ চন্দ্র দাসের ছেলে বাদল দাস (৬০)। এদের মধ্যে বাবুল মিয়া ঢাকার শেরে বাংলা নগর এলাকার আমতলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং ইমরান ও বাদল দাস একই ইউনিটের সদস্য।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপকমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান জানান, হত্যায় জড়িত আসামিরা গাজীপুরে আত্মগোপন করে আছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম মহানগরীর সদর থানার লক্ষীপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনকারী ইমরানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত গেঞ্জি, প্যান্ট ও ব্রেসলেট জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার দিন পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ ও পুলিশ সদস্যকে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিভিন্ন তথ্য জানায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তি, ঘটনার সময় প্রাপ্ত ভিডিও, ফুটেজ, ছবি এবং তার মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর তিনজন বাবুল, মনির ও বাদল দাসকে মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, বাবুল মিয়ার নেতৃত্বে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে বিএনপির সমাবেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর তারাসহ আরও অনেকে আক্রমণ চালায়। ঘটনার দিন পুলিশ কনস্টেবল হত্যার পর গ্রেপ্তারের ভয়ে তারাসহ অন্যান্যরা গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপকমিশনার (সিটি-এসবি অ্যান্ড প্রটেকশন) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, উপকমিশনার (ডিবি-উত্তর) মুহাম্মদ কামাল হোসেন।
আমাদেরকাগজ/এমটি