আইন ও আদালত ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:০৪

নুরদের কোতোয়ালির মামলার প্রতিবেদন ৭ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় করা মামলা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি আজ বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেন

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী

কোতোয়ালি থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮), আহ্বায়ক হাসান আল মামুন (২৮), ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (২৫), ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং আব্দুল্লাহিল বাকি (২৩) এর আগের মামলায় হাসান আল মামুনকে নম্বর নাজমুল হাসান সোহাগকে নম্বর এবং নুরকে নম্বর আসামি করা হয় নুর দুই মামলাতেও নম্বর আসামি

মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘আসামি হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র তিনি আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাদে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই মামুনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায় এর ধারাবাহিকতায় আসামির সঙ্গে আমার বিভিন্ন সময়ে মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন হয় সেখানে আসামি আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয় এরই ধারাবাহিকতায় আসামি বছরের জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে তার বাসা নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ এলাকায় যেতে বলে এবং আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় ধর্ষণ করে

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ‘ঘটনার পর গত জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি ১২ জানুয়ারি আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মামুনের বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন সোহাগ বাধা দেয় এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়, কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে

উপায়ান্তর না দেখে গত ২০ জুন বিষয়টি ভিপি নুরকে মৌখিকভাবে জানানোর কথা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী এজাহারে আরো বলেন, “নুর বলেন, ‘মামুন আমার সহযোদ্ধা তাঁর সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেব এরপর ২৪ জুন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তিনি (নুর) আমার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা করতে আসেন কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন আমি যদি বাড়াবাড়ি করি, তাহলে তাঁর ভক্তদের দিয়ে ফেসবুকে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবেন এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে বলে হুমকি দেন তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের . মিলিয়ন (১১ লাখ) সদস্যের গ্রুপে প্রচারণার হুমকি দেওয়া হয় নুর আরো বলেন, তাঁর একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে ইতোমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে তারা মেসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে

এজাহারে বাদী আরো বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যা দেয় এরপর আমি শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বলার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে