লাইফস্টাইল ডেস্ক: সুস্বাদুর দিক দিয়ে দেশের সব মানুষের কাছে জনপ্রিয় রাজশাহীর আম। স্বাদে আর গন্ধে এ অঞ্চলের আম এক কথায় অতুলনীয়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমের আবাদ হলেও এখানকার আমে এত স্বাদ কেন এটা জানতে অনেকের মধ্যেই কৌতহেলের জন্ম নেই। রাজশাহীর আম এত সুন্দর কেন? আনুন জেনে নিই-
বলতে পারেন যে, আমের স্বাদ তো হয় জাত অনুসারে। তাহলে রাজশাহীর আম নিয়ে এত মাতামাতি কেন? এ কথা আংশিক ঠিক। তবে আমের স্বাদে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে মাটি। একেক এলাকার মাটি একেক স্বাদের আমের জন্ম দেয়। ধরুন, আপনি একই জাতের ২টি আমের চারা একটি লাগালেন রংপুরে, আর একটি লাগালেন সিলেটে। যখন গাছটি থেকে ফল অর্থাৎ আম আসবে, তখন দেখা যাবে যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে দুইটি গাছের আমের স্বাদের মধ্যে। এর কারণ মাটি। আমের জন্য রাজশাহীর মাটিই সেরা।
এছাড়া রাজশাহীর আবহাওয়া (বিশেষ করে তাপমাত্রা) অন্যতম কারণ। ফুলের (মুকুল) প্রাথমিক ধাপ (flower primordia) গঠনের সময় কিছুদিন ধরে আবহাওয়ার একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বিরাজ করলে বিশেষ কুড়ি (bud) ফুলে রুপান্তর হয়। নতুবা ওটা নতুন পাতায় রূপান্তর হয়। প্রত্যেক বছরই ওই সময়ে রাজশাহী অঞ্চলের তাপমাত্রা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আমের জন্য অনুকূলে থাকে। ফলে গাছে বেশি মুকুল আসে। তাইতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আম উৎপাদন এলাকা রাজশাহী অঞ্চল।
আমরা সবাই এটা জানি যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর আম সুমিষ্ট হয়। মাটির পাশাপাশি জেনেটিক কারণও অন্যতম। এর প্রধান উপাদান বলা চলে এটাই।
এছাড়া, সূর্যের আলো সরাসরি আমে আসার পর আমে সুক্রোজ নামের একটি উপাদান তৈরি হয়। আমরা যে চিনি খাই, তাকেই সুক্রোজ বলে। যার কারণে আম অত্যান্ত সুমিষ্ট হয়। আবার আম পাঁকার সময় যদি কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হয় বা আকাশ মেঘলা থাকে, তাহলে আমে মিষ্টতার পরিবর্তে টক ভাব থেকে যায়।
আমাদের দেশে প্রায় ১ হাজার জাতের আম রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় এখনো আমের অনেক জাতবৈচিত্র্য দেখা যায়। স্থানীয় সেসব জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ক্ষীরভোগ, মোহনভোগ, রাজভোগ, রানিভোগ, রানিপসন্দ, সিন্দুরা, সুবর্ণরেখা, কুয়াপাহাড়ি, নাক ফজলি, ফজলি, চিনি ফজলি, সুরমাই ফজলি, চিনিমিছরি, জগমোহিনী, রাখালভোগ, রাঙাগুড়ি, গোবিন্দভোগ, তোতাপুরী, মিছরিকান্ত, জালিবান্ধা, বোম্বাই, ভুতো বোম্বাই, পাহাড়িয়া, গোলাপখাস, কাকাতুয়া, দাদভোগ, চম্পা, সূর্যপুরী, কাঁচামিঠা, কলামোচা, শীতলপাটি, লক্ষ্মণভোগ, গোলাপবাস, কিষানভোগ, বান্দিগুড়ি, রাংগোয়াই, আশ্বিনা, ভাদুড়িগুটি, বনখাসা, বউ ফুসলানি, ক্ষীরমন, দুধসর, রংভিলা, পারিজা, আনোয়ারা, দিলশাদ, আম্রপালি, মল্লিকা, বেগমবাহার, পূজারীভোগ, পলকপুরী, রাজলক্ষ্মী, দুধকুমারী, শ্যামলতা, খাট্টাশে, জাওনা, দমমিছরি, মিছরিমালা, মিছরিবসন্ত, মেসোভোলানি, আনোয়ারা, পলকপুরী, ফুনিয়া, রানিপসন্দ, গোলাপবাস, বাতাসাভোগ, ইটাকালি, গোল্লাছুট, পোল্লাদাগী, মোহনবাঁশি, পরানভোগ, বিড়া, ভারতী, বাদশাহপসন্দ, বেগমপসন্দ, রাজাপসন্দ, বনখাসা, বাগানপল্লি, কালিগুটি, পাকচারা, কালিয়াভোগ, কোহিতুর, কালিগুলি, হাঁড়িভাঙা ইত্যাদি।
আমাদেরকাগজ/এইচএম






















