লাইফস্টাইল ডেস্ক : আমাদের দেশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির কুল বা বরই। এতে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ গলার ইনফেকশনজনিত অসুখ (যেমন- টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বাতে ঠাণ্ডাজনিত লালচে ব্রণের মতো ফুলে যাওয়া, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া) এগুলো দূর করে। বরই এর রস অ্যান্টি-ক্যানসার ড্রাগ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বরইতে রয়েছে ক্যানসার সেল, টিউমার সেল, লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ শক্তি।
ক্যানসার প্রতিরোধ: বরই এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যারা টিউমারের উপর সাইটোটক্সিক প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে শরীরে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
রক্ত পরিশুদ্ধ: শুকনো বরই এর মধ্যে স্যাপোনিন, অ্যাল্কালয়েড এবং ট্রাইটারপেনয়েড উপাদান থাকে যারা রক্ত পরিশুদ্ধ করে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে থাকে।
ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা: ইনসোমনিয়া এবং দুশ্চিন্তা অনেক মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বরই এর শক্তিশালী কেমিক্যালগুলো অনিদ্রা এবং দুশ্চিন্তা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: বরই এর ভেতরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিকেলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এছাড়াও এর মধ্যে ভিটামিন সি, এ, বি২, ফাইটোকেমিক্যাল ইত্যাদি পাওয়া যায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
লিভারের সুরক্ষা: শরীরের ফ্রি র্যাডিকেলগুলো লিভারের ক্ষতি করে। বরই এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি লিভারকে সুরক্ষা প্রদান করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: বরইতে ফ্যাট নাই বললেই চলে। ২ আউন্স (প্রায় ৪টি) বরই খেলে শরীরে ৪৪ ক্যালরি শক্তি যোগান দেয়, কিন্তু ফ্যাট প্রায় শূন্য। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও এরা সাহায্য করতে পারে।
হাড় মজবুত করে: এই ফলে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি সহ আরো অনেক ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায় যা হাড় শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে।
রক্ত সঞ্চালন: আয়রন ও ফসফরাস শরীরে রক্ত উৎপাদন এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে পেটের সমস্যা দূর করতে, মাংসপেশি শক্তিশালী করতে এই ফলের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বরই খাওয়ার অপকারিতা:-
অপকারিতা বলতে নাই বলাই চলে তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত যা এখন আমরা আলোচনা করব।
বরই স্বাস্থ্যকর ফল তবে এটি টক হয়। টক জাতীয় ফল খালি পেটে না খাওয়াই ভালো। সকালে নাস্তা করে নেয়ার পর বরই খাওয়া উচিত। এতে করে বরই গুনাগুন গুলো শরীরে উপকারে আসবে।
বরই ক্যালরি ও ফ্যাট কম: বরই ক্যালরি ও ফ্যাট কম থাকার কারণে ওজন বৃদ্ধি হয় না। যারা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে চায় তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বরই খাওয়া যাবে না। তবে নিয়ন্ত্রিত মত খাওয়া যেতে পারে।
এছারাও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত যেমন। শুকনো বরই কিনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সেগুলো যাচাই করে কেনা উচিত। কেননা অনেকেই ব্যবসায় লাভ করার ক্ষেত্রে নানান ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড়ই শুকনো করে থাকে। যা আমাদের শরীরে এর প্রভাব পড়তে পারে। যেমন পেটে ব্যথা সমস্যা হতে পারে। তাই বড়ই কেনার ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত।
আমাদেরকাগজ/ এইচকে






















