লাইফ স্টাইল ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৫৪

গোমড়া মুখের সঙ্গীর প্রতি তীব্র কামনা অনুভব করে নারী

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আমাদের কাগজ ডেস্কঃ নারীর যৌনতা, তার কাম বাসনা, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশে একটি নিষিদ্ধ বিষয়। এই প্রসঙ্গে কথা বলা খুব মুশকিল। নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকতে নেই- এমনটাই সামাজিকভাবে নারীকে শেখানো হয়। মনে করিয়ে দেয় বার বার। 

যৌন আচরণবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষের যৌন আচরণের অভিজ্ঞতা। মানুষের যৌনতাকে ব্যাখ্যা করা যায় এইভাবে যে, কীভাবে বিপরীত লিঙ্গের (হেটোরো সেক্সুয়ালিটি) মানুষ এক জন আরেকজনকে আকৃষ্ট করছে কিংবা আকৃষ্ট হচ্ছেন, কিংবা সমলিঙ্গীয় আকর্ষণ (হোমো সেক্সুয়ালিটি) অথবা একই সঙ্গে সম এবং বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করা (বায়ো সেক্সুয়াল) অথবা কোন লিঙ্গের প্রতি আগ্রহ বোধ না করা (এ সেক্সুয়াল)।

কিন্তু সমীক্ষা বলছে, গোমড়া মুখের সঙ্গীর প্রতি দৈহিক মিলনের তীব্র কামনা অনুভব করে নারী। অতি স্টাইলিশ ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং আত্ম- মর্যাদাকারীও ভাবেন নারী। 

 

যে কথা যায় না বলা

যৌনতা, কাম বাসনা- এসব বিষয়ে খুব খোলামেলাভাবে কয়জন নারী বলতে পারবেন?

তা জানার জন্য যখন কথা বলার চেষ্টা করলাম, শুরু থেকেই না শুনতে হল বারবার।

অনেকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলতে নাকচ করে দিলেন, কেউ বিষয়বস্তু শুনেই হকচকিয়ে গেলেন, আবার কেউ লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেললেন।

"আই এনজয় সেক্স", আমি যৌন মিলন খুব উপভোগ করি," অবশেষে একজনকে পাওয়া গেলো যিনি সরাসরি এমনটাই বললেন, তবে নিজের নাম, পরিচয় লুকিয়ে রাখার শর্তে।

"আমি দু'একবার দুষ্টামি করে লাইনটা বলেছি। প্রথমে সবাই মনে করেছে আমি ঠাট্টা করছি। তারপর যখন বুঝতে পেরেছে যে না আমি আসলে সিরিয়াস, পরে শুনেছি যে তারা আমার চরিত্র খারাপ এমন একটা লেবেল লাগিয়ে দিয়েছে। পরে দেখা হলে আমার দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়েছে," বলেন তিনি।


নারীর যৌনতা প্রসঙ্গে কথা বলা খুব মুশকিল

একটি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এই নারী। বয়স ৩৫ বছর। যৌন জীবনে খুব সক্রিয় বলে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকে যৌনতা সম্পর্কে কী শিখেছেন তা বর্ণনা করে বলছিলেন, "যখন কিশোরী ছিলাম, এই ধরেন স্কুলের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বইয়ে একটুখানি ধারণা পেলাম। তারপর বান্ধবীদের কাছ থেকে যখন রোমান্টিক উপন্যাস ধার করে পড়লাম তখন বিষয়টা সম্পর্কে আরও একটু বিস্তারিত ধারণা পেলাম।

কিন্তু সেই সময় আমি বা আমার বান্ধবীরা প্রেম ভালোবাসা নিয়ে কথা বলতাম কিন্তু তার মধ্যে সেক্স বিষয়ে কোন আলাপ হতো না। আর তখন শরীরের এই অনুভূতিটাও বুঝতাম না। তখন ধারণা করতাম যে এটা নিয়ে কথা বলা পাপ, এটা করলে তুমি অশুদ্ধ, পরিবার থেকে এভাবেই শেখাত।"

যৌনতায় আগ্রহী নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন
 

নারীর যৌনতা, তার কাম বাসনা, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশে একটি নিষিদ্ধ বিষয়।

বিশ্বের বহু সংস্কৃতিতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, নারীরা যৌনতায় পুরুষের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করে না বরং তারা নিজেরা যৌনতার বস্তু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক জোবায়দা নাসরিন 'আনপ্যাকিং সেক্সুয়ালিটি' বা 'যৌনতার মোড়ক উন্মোচন' এবং 'যৌনতার ইতিহাস'- এই শিরোনামে দুটি গবেষণা করেছেন।

তিনি বলছেন, নারীর যৌনতার বিষয়ে সমাজের কী ধারণা সেটা তিনি তার গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন।

যৌনতায় আগ্রহী হলে সমাজের চোখে সে খারাপ নারী !

তিনি বলছেন, "আমাদের এখানে নারীর যৌনতা নিয়ে একটা ট্যাবু আছে- যৌনতার দিক থেকে নারী প্যাসিভ থাকবে, নারীর শরীর রাখঢাকের বিষয়। আমাদের গবেষণার অভিজ্ঞতা বলছে যে আমাদের দেশে নারী যদি যৌনতা সম্পর্কে জানে, তার ফ্যান্টাসি আছে এসব নিয়ে, এমনকি যদি পার্টনারের সাথেও এবিষয়ে আলাপ করে, তখন সন্দেহ করা হয় যে নিশ্চয়ই তার যৌন অভিজ্ঞতা আছে।

তার যৌনতা-কেন্দ্রিক আগ্রহকে সমাজ ভালোভাবে দেখে না। যে নারী তার যৌনতাকে এক্সপ্রেস করবে, সমাজের চোখে সে খারাপ নারী," বলেন তিনি।

একই বিষয়ে পুরুষদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিজ্ঞতা হল অন্যরকম:

ধমকের সুরে কয়েকজন জানিয়ে দিলেন- কথা বলার মতো কোন বিষয় এটি হতে পারে না। কেউ হেসে উড়িয়ে দিলেন, এমনকি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ খিস্তি বের হয়ে এলো দু'একজনের মুখ থেকে। সূত্র, ডিবিসি 

আমাদের কাগজ/এম টি