অর্থ ও বাণিজ্য ১৬ মে, ২০২৬ ০৮:২৬

জুনে আসছে হাঁড়িভাঙা আম, বাণিজ্য সম্ভাবনা ৩০০ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় রংপুরের সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম এখনো গাছ থেকে পারা শুরু হয়নি। প্রতি বছরের মতো এবারও জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে মিলবে জিআই পণ্য স্বীকৃত এই আম। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র এক মাস। বর্তমানে আমের বয়স প্রায় চার মাস।

প্রতি বছর হাঁড়িভাঙা আম জুনের ২০ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত শুরু হয়। তবে কৃষি অফিস বলছে, আবহাওয়া তপ্ত থাকলে এর আগেও গাছ থেকে আম পাড়া যেতে পারে। আর এই আমকে কেন্দ্র করে চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ৩০০ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি অফিস ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা আমের মুকুল সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আসে। এরপর কমপক্ষে পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে চাষিরা আম ঘরে তুলতে পারেন। সেই হিসেবে জুনের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সপ্তাহে বাজারে মিলবে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম।

এর আগে, বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা হবে অপরিপক্ব। অন্যান্য অঞ্চলের আমে যখন বাজার ভরপুর তখন হাঁড়িভাঙার প্রকৃত স্বাদ পেতে একটু অপেক্ষায় থাকতে হয়। বর্তমানে বাগানগুলোতে আমের পরিচর্যা চলছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে সাহায্য করলেও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে হাঁড়িভাঙার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০ শতাংশ ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

বেশি ফলনের সম্ভাবনা
হাঁড়িভাঙা আম এক বছর কম ফলন দেয়, পরের বছর আবার ভালো ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, সেই বছরকে বলা হয় অফ ইয়ার। যে বছর ভালো ফলন দেয়, সেই বছরকে বলা হয়ে থাকে অন ইয়ার। এবার হাঁড়িভাঙা আমের অন ইয়ার। এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।

জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ হাট এলাকার আমচাষি মেহেদী হাসান জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও আমের চাষ করেছেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা ভয়ে আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রামের আমচাষি বেলাল হোসেন বলেন, এবার গাছে আমের মুকুল ভালোই এসেছে। গতবারের তুলনায় ফলন বেশি হবে আশা করা হয়। আম পারার মাসখানেক বাকি রয়েছে। যদি বড় ধরনের কোনো ঝড়-বৃষ্টি না হয় তাহলে আশানুরূপ লাভ হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বড় বড় পার্টি ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। আশা করছি, এবার আমের দাম ও চাহিদা দুটোই সন্তোষজনক হবে।

কালবৈশাখী ঝড়ে বাড়ছে লোকসানের ভয়
সম্প্রতি রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বাগানজুড়ে কয়েক টন হাঁড়িভাঙা আম ঝরে পড়েছে। ঠিক আঁটি আসার আগ মুহূর্তে গুটি ঝরে পড়ায় ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে। শিলাবৃষ্টির ফলে গাছে থাকা আমগুলোও দ্রুত ঝরে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও গাছে থাকা আমে ফাটল, দাগ ও ফুটো দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক ঝড়ের পূর্বাভাস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আমচাষিদের মধ্যে।

পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি মিন্টু মিয়া জানান, তার এক একর বাগানে প্রায় ২৫০টি হাঁড়িভাঙা আমের গাছ রয়েছে। ৪০০ মণ আমের আশা ছিল, কিন্তু কালবৈশাখীর তাণ্ডবে প্রায় ১০০ মণ নষ্ট হয়ে গেছে। আঁটি হওয়ার আগে আমগুলো ঝরে যাওয়ায় বিক্রিও করা যাচ্ছে না। বাগানে ১ লাখ টাকার মতো খরচ করে এই পরিস্থিতির কারণে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন বলেও জানান তিনি।

এলাকার আমচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ো হাওয়ার কারণে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সামনে আরও ঝড় হলে লোকসান গুনতে হবে।

এ বিষয়ে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিকভাবে কিছু থিনিং হয়ে গেছে। এতে বাকি আমগুলোর আকার বড় হতে পারে। সঠিক পরিচর্যা করলে উৎপাদনে বড় প্রভাব নাও পড়তে পারে।

আম সংরক্ষণে হিমাগার ও গবেষণা জরুরি
হাঁড়িভাঙা আম সংরক্ষণে ‘গবেষণা জরুরি’ দাবি করে চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই আম পরিবহনের জন্য বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস চালু করা দরকার। একইসঙ্গে ন্যায্য দাম নিশ্চিতকরণে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। হাঁড়িভাঙা আমের রাজধানীখ্যাত পদাগঞ্জ হাটের রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং হাটে আম বিক্রির শেড নির্মাণ, ব্যাংকিং সুবিধা বাড়ানো, পাবলিক টয়লেট স্থাপন ও বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জোর দাবি তাদের।

তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই আমের লাইফলাইন নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু, আমরা এখনো এর কোনো সুফল দেখিনি। হাঁড়িভাঙা আম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলেও স্থানীয়ভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী এই স্বীকৃতির গুরুত্ব সম্পর্কে এখনো অবগত নন।

আমচাষি আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করছি। টেকসই অর্থনীতির জন্য হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন ও গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের জন্য আমরা বহুবার বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দাবি তুলে ধরেছি। কিন্তু এসব দাবি বারবার উপেক্ষিত থেকে গেছে। অথচ আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। সরকার একটু দৃষ্টি দিলেই হাঁড়িভাঙাকে ঘিরে এই অঞ্চলের অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে।

রংপুর কৃষি বিভাগ বলছে, হাঁড়িভাঙা আম সংরক্ষণের ওপর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করছে। তবে কবে নাগাদ গবেষণার ফল আসবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। হাঁড়িভাঙার লাইফলাইন ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়েও গবেষণা চলছে।

আবাদের লক্ষ্যমাত্রা

বিষমুক্ত ও অতি সুমিষ্ট আঁশহীন হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কয়েক বছর ধরে ফলন ভালো হওয়ায় বেড়ে চলেছে আম উৎপাদনের পরিধিও। রংপুর সদর, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃত এলাকার ফসলি জমি, বাগানসহ উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে এই আম।

এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আম প্রায় ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ওপরে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

হাঁড়িভাঙার গোড়াপত্তনের ইতিহাস
হাঁড়িভাঙা আমের গোড়াপত্তন করেছিলেন খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রামের নফল উদ্দিন পাইকার নামে এক বৃক্ষবিলাসী মানুষ। স্বাধীনতার আগের বছর ১৯৭০ সালে নফল উদ্দিন পাইকার ১২০ বছর বয়সে মারা যান। এখন তার লাগানো হাঁড়িভাঙা গাছটির বয়স ৭৬ বছর।

নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে আমজাদ হোসেন জানান, সম্ভবত ১৯৪৯ সাল, তখন তার বাবা নফল উদ্দিন এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। উপজেলার বালুয়া মাসুমপুর গ্রামটি ছিল ঝোপজঙ্গলে ভরপুর। সেই এলাকার একটি জমি থেকে দুটি আমের চারা নিয়ে এসে কলম করেন তার বাবা। তবে একটি গাছ চুরি হয়ে যায়। বাকি গাছটিতে মাটির হাঁড়ি বেঁধে পানি (ফিল্টার সিস্টেমে) দেওয়া হতো। একদিন রাতে কে বা কারা মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে।

তিনি আরও জানান, গাছটিতে এক সময় বিপুল পরিমাণ আম ধরে। খেতে খুবই সুস্বাদু। বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে লোকজন এই আম সম্পর্কে জানতে চায়। তখন থেকেই গাছটি হাঁড়িভাঙা নামে পরিচিতি পায়। এখন হাঁড়িভাঙা আমের সুনাম মানুষের মুখে মুখে। গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বাগান। তিনি হাঁড়িভাঙা আমের মাতৃগাছটির সংরক্ষণের দাবি জানান।

১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারণ শুরু হয় আখিরাহাটের আব্দুস সালাম সরকারের হাত ধরে। শুধু চাষবাদ নয়, এই অঞ্চলের হাঁড়িভাঙা সম্প্রসারণে তার রয়েছে অবদান অনস্বীকার্য। তার হাত ধরেই রংপুর অঞ্চলের সম্প্রসারিত হয়েছে হাঁড়িভাঙার স্বপ্ন। মানুষ এখন অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভের আশায় উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আম চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

ভালো মানের হাঁড়িভাঙা চেনার উপায়
হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য হলো এটি আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এই আমের আঁটিও খুব ছোট। ছাল পাতলা। প্রতিটি আমের ওজন হয় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই আমের বাজারজাত শুরু হয়।

ভালো মানের হাঁড়িভাঙা আম চেনার উপায় প্রসঙ্গে আমজাদ হোসেন বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের ওপরটা যত কালচে, ভেতরে ততোই সুন্দর। এর স্বাদ ও মিষ্টি লোভনীয়। দেখতে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন আমে কীটনাশক ও স্প্রে ব্যবহার বাগান কিনে নেওয়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভের জন্য করে থাকেন। এতে আম দেখতে ভালো, সুন্দর ও পাকা রঙের মনে হয়।

চাষিরা বলছেন, হাঁড়িভাঙা আম পাকলে এটি তিন-চার দিনের বেশি রাখা যায় না। সংরক্ষণের কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। যদি এই আম সংরক্ষণের সঠিক প্রক্রিয়া থাকত, তাহলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হতো।

বাণিজ্যের বিশাল সম্ভাবনা
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি করা হয়। দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে এই আমের ব্র্যান্ড ভ্যালুও বেড়েছে, যা ভালো দাম নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে। এই আম ঘিরে বিশাল বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলেও হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব নিয়ে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। হাঁড়িভাঙা আম দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এটি পরিবহনে বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করা উচিত।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার আমের অন ইয়ার। প্রচুর আম ধরেছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত করতে এবার যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে মনিটরিং করা হবে। বিশেষ করে পরিবহনে যাতে ব্যবসায়ীদের কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।