অপরাধ ও দুর্নীতি ১২ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:০১

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড : মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

ডেস্ব রিপোর্ট

মন্ত্রিসভা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা অংশ নেন।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবীর বিষয়টি প্রায়ই আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সিলেটে এমসি কলেজে গৃহবধু ধর্ষণ আর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ আর প্রতিবাদ শুরু হয়। দাবী তোলা হয়, ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করতে হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। অধ্যাদেশ জরির অর্থ, কাল থেকেই এটি আইনে পরিণত হবে। তবে আইনে পরিণত হওয়ার আগে ভেটিং অর্থাৎ এটির যাচাই বাছাই হবে। এই মুহুর্তে সংসদ অধিবেশন না থাকার কারণে রাষ্ট্রপতি এই আইনকে অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করছেন, যা শিগগিরই কার্যকর হবে।

নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০'-এর সংশোধিত খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আইনের সংশোধনীর প্রস্তাবিত খসড়ায় কয়েকটি ধারায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইনের () ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন ছিল। এখন তা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়। এরপর সোমবারের মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

কয়েকদিন আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংক্রান্ত আইনটির সংশোধনী ১২ অক্টোবর সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। ২০০০ সালের আগে ধর্ষণের ঘটনায় জরিমানার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না।

২০০০ সালের নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে জরিমানা বাধ্যতামূলক করা হয়। আইনে বলা হয়, যদি কোন ব্যক্তি ধর্ষণ বা ধর্ষণের পরে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ধর্ষক মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

আর যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করে বা আহত করার চেষ্টা করে তাহলে তার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। আর ধর্ষণের চেষ্টা করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।