কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ।।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দক্ষিন রাধাবল্লভ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একলক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। গত জুন মাসে বরাদ্ধের টাকা উত্তোলন করা হলেও ভুয়া ভাউচার, কাজ না করেই উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের দক্ষিন রাধাবল্লভ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রুটিন মেইনটেন্যান্স বাবদ ৪০ হাজার, প্রাক-প্রাথমিকে ১০হাজার, স্লিলিপ গ্রান্ডের ৫০হাজার টাকা মোট ১লক্ষ টাকা বরাদ্দ পান। বরাদ্দ কৃত টাকা কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক নিজের ইচ্ছামত দায়সারা কাজ করেন বলে আভিযোগ উঠেছে। ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে মোটা অংকের টাকা আত্বসাৎ করেন। ভাউচারে নতুন বুক সেলফ তৈরীর কথা থাকলে বাস্তবে সেটা পুরাতন পাওয়া গেছে। একটি ভাউচারে দেয়াল ঘড়ির মুল্য ৮হাজার ৫শত টাকা ধরা হয়েছে । ১টি চেয়ার ৬হাজার, ১টি টেবিল ৮হাজার মুল্য ধরা হলে তা নিম্নমানের কাঠ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। জিপিআরএস মেশিন ক্রয় বাবদ ১২ হাজার টাকা, বায়োমেট্রিক হাজিরা ডিভাইস ক্রয় বাবদ ১৫ হাজার টাকার ভাউচার থাকলেও প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের ডিভাইস দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক। মা সমাবেশ নামে ৩হাজার, হলুদ পাখির ক্যাপ ৮ হাজার, বায়োমেট্রিক মেশিন রাখার জন্য কেস ১হাজার টাকাসহ আরও অনেক ভুয়া ভাউচার দিয়ে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি প্রধান শিক্ষক নিয়মিত ও সঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না স্কুলে আসলেও অফিসের কাজের অযুহাত দিয়ে স্কুল ত্যাগ করেন । স্কুলে একটি ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর থাকলে কোন দিন ছাত্র-ছাত্রীদের তা দেখানো হয় না। স্কুলের ল্যাপটপটি নিজের বাড়ীতে রেখেছেন।
ভুয়া ভাউচারে বিল উত্তোলন বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক জানান আমি টাকা আত্মসাৎ করিনি সঠিকভাবে কাজ করা হয়েছে বলে দাবী করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবু সালেহ সরকার ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, চরে ব্যস্ত আছি এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, কোন স্কুলে সরকারী টাকা খরচে অনিয়ম করা হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সকল স্কুল আমি নিজেই মনিটরিং করবো।






















