অপরাধ ও দুর্নীতি ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:২০

প্রতি মাসে শেখ মারুফকে ২০ লাখ টাকা দিতেন সেলিম প্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে রিমান্ডে নিয়ে ৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করে ফেরত পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার (আজ) বিকেলে তাঁকে আদালতে নেওয়ার পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, সেলিম প্রধানকে গত রোববার দুপুর ১২ টার দিকে ৭ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগেই তাঁকে ফেরত পাঠানো হয় বলে দুদক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

এই জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম প্রধান স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মারুফ তার বিজনেস পার্টনার ছিলেন।  প্রতি মাসে ২০ লক্ষ করে টাকা শেখ মারুফকে দেওয়া হত। শেখ মারুফের মাধ্যমেই সেলিম সরকারের ওপর মহলে যোগাযোগ করতেন। সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য সেলিম প্রধান শেখ মারুফকে ব্যবহার করতেন।

সেলিম প্রধান স্বীকার করেছেন, শেখ মারুফ তার একাধিক বিজনেসের পার্টনার। এর প্রধান কারণ ছিল সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে তার এই অনলাইন ক্যাসিনোসহ অবৈধ ব্যবসায় যেন কোন বাধা প্রধান না করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, ৫ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম প্রধান কাছ থেকে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। দেশে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা, তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যসহ নানা ধরণের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। সেলিমের সম্পদ সম্পর্কেও বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে এনে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাঁকে নিয়ে তাঁর অফিস ও বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ ২৩টি দেশের মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, একটি বড় সার্ভার, চারটি ল্যাপটপ ও দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। হরিণের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইনে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে দুটি মামলা হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৭ অক্টোবর সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে ১২ কোটি ২৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে মামলাটি করেন উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ নিয়ে ১৬ টি মামলা করল দুদক। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, সেলিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ প্রিন্টিং ও অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারের হিসাব আয়কর নথিতে না দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকিসহ অবৈধভাবে ১২ কোটি ২৭ লাখ টাকা অর্জন করেছেন।