অপরাধ ও দুর্নীতি ৬ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৫৬

মালয়েশিয়ায় অপহরন, টেকনাফে আটক অপহরনকারী 

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

মালয়েশিয়াতে অবস্থিত বাংলাদেশী শ্রমিককে অজ্ঞাতস্থানে অপহরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপন আদায়কারী চক্রের দুই সদস্যকে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। আটককৃত আসামীরা হলেন হামিদ হোসেন (২৪) ও আমান উল্লাহ (৪৩)।  

ভিকটিম শহীদুল ইসলাম ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালয়েশিয়াতে গমন করেন। মালয়েশিয়াতে যাওয়ার পর মাহবুব হোসেন এর সাথে তার পরিচয় হয়। মাহবুব হোসেন তাকে কাজ দেয়ার কথা বলে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে এবং নির্যাতন করে। পরবর্তীতে দেশে অবস্থিত তার স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে তার আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপন দাবী করে এবং মুক্তিপণের টাকা দেয়ার জন্য একাধিক বিকাশ নম্বার প্রদান করে। তার স্বজনরা উক্ত টাকা দেয়ার পর চক্রটি তাকে ছেড়ে দেয়। 

পরবর্তীতে শহীদুল ইসলামের ভাই উক্ত ঘটনার ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করে। মামলাটি তদন্তকারি সংস্থা সিআইডি কর্তৃক অধিগ্রহণ করার পর অর্গানাইজ ক্রাইম শাখা, বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোল্লা নজরুল ইসলাম এর তত্বাবধানে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জনাব আবু সাঈদের নেতৃত্বে একটি টিম কর্তৃক উক্ত মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী হামিদ হোসেন (২৪) কে গত ৩০/০৭/২০১৯ তারিখ এবং তার সহযোগী আমান উল্লাহ (৪৩) কে ০৩/০৮/২০১৯ ইং তারিখে টেকনাফ হতে গ্রেফতার করে। 

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, টেকনাফ থানা এলাকার বাসিন্দা মাহবুব হোসেন মালয়েশিয়াতে দীর্ঘদিন অবস্থান করে তার কিছু মালয়েশিয়ার সহযোগীদের মাধ্যমে একটি চক্র তৈরি করে । সেই চক্রের মধ্যমে মালয়েশিয়াতে আগত অসহায় মানুষদেরকে ভাল কাজ দেয়ার কথা বলে কৌশলে তাদের অপহরণ করে। তারপর তাদের নির্যাতন করে স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে অপহৃতদের আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপন দাবী করে। ভিকটিমের স্বজনরা ভিকটিমকে বাঁচানোর জন্য দাবীকৃত অর্থ দিতে সম্মত হলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার সহযোগীদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে। 

শহীদুল ইসলামের স্বজনের নিকট হতে আসামীরা ৮টি বিকাশ হিসাবে মোট ২ লক্ষ টাকা গ্রহন করে। উক্ত বিকাশ নম্বর সমূহের মধ্যে ৪টি সীম খোরশেদ এর নামে রেজিষ্ট্রিকৃত ১টি সীম হামিদের নামে রেজিষ্ট্রিতৃক এবং বাকী রেজিষ্ট্রিকৃত সীম গুলোর বিকাশ হিসাব বর্তমানে মালয়শিয়াতে পলাতক অত্র মামলার অন্যতম আসামী মাহাবুবের নামে পরিচালিত হয়। 

আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদ্বয় সীমগুলো তাদের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত বলে স্বীকার করে এবং তারা মাহবুবের নির্দেশে সংঘটিত হয়ে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে জানায়। আটককৃত আসামী আমান উল্লাহ আমান বর্তমানে মাহবুব ষ্টোর নামের দোকানটির পরিচালনাসহ খোরশেদ ও মাহবুব নামে নিবন্ধিত সকল সীম দিয়ে ব্যবসা ও সকল অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মামলাটি তদন্তাধীন আছে।