নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার উত্তরখান থানার বড়বাড়ি এলাকায় এক নারীকে পিটিয়ে আহত ও গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে যুবলীগের কথিত নেতা আরিফুল ইসলাম প্রিন্সকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি উত্তরখান থানার ৪৪ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের কথিত নেতা।
গতকাল সোমবার উত্তরখান থানার এসআই সালামের নেতৃত্বে আরিফুল ইসলাম প্রিন্সকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৪৮ ধারায় অধিকার প্রবেশ, ৩১৩ ধারায় ও পরিকল্পনা অনুযায়ী মারপিট, ৩২৩ যখম, ৩০৭ ধারায় গর্ভাবস্থায় শিশু সন্তান হত্যা ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী ফারহানা আফরোজ লিপি বলেন, আমার ননদের স্বামী আরিফুল ইসলাম প্রিন্স বেকার ও ভবঘুরে। আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম প্রিন্স আমার স্বামীর সম্পদ দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে আমার স্বামী ও আমাকে মারধর ও নির্যাতন করে। এ বিষয়ে আমি ও আমার স্বামী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উত্তরখান থানায় জিডি করেছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম প্রিন্স আমার স্বামী ও আমাকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করে। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রুয়ারি আমাকে বাসায় একা পেয়ে হামলা চালায়। আমার বাসায় ঢুকে মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। আমি সরে গেলে আমার হাতে লাগে ও আমার হাত ভেঙে যায়। তখন আমি মাটিতে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরিফুল ইসলাম প্রিন্স আমার পেটে লাথি মারে। লাথি মারার সাথে সাথে বলতে থাকে তোর পেটের সন্তানকে এই পৃথিবীতে আসতে দিবোনা। এতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরবর্তীতে আমি নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তার জানায়, আমার পেটের সন্তানকে আরিফুল হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমি আজ সকালে সুস্থ হয়ে আরিফুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার শিশুহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এ বিষয়ে ওই নারীর স্বামী মিরাজ উদ্দিন সুমন বলেন, আরিফুল ইসলাম প্রিন্স খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। কোন কাজ করেন না, ভবঘুরে ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। আমার জায়গা দখল করার জন্য বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি করছে ও নিজেকে যুবলীগের নেতা দাবি করেন। আরিফুল ইসলাম প্রিন্স আমার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করে ফেলেছে। আমি আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত শাস্তি চাই।






















