নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম শিপন হত্যার ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঢাকার সরকারি মানসিক হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বলে জানা গেছে।
এএসপি শিপন হত্যা মামলায় আদালতে দেয়া আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তার নাম উঠে আসার পর মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও বিভাগ পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ।
উল্লেখ্য ‘এই মামলার ভিকটিম আনিসুল করিমকে উন্নত চিকিৎসার আশায় মামলার বাদী গত ৯ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মানসিক চিকিৎসা দিতে পারেন এমন কোনো ডাক্তার হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন না। আসামিরা চিকিৎসা দেয়ার অজুহাতে ভিকটিমকে বলপ্রয়োগ করে হাসপাতালের দোতলায় স্থাপিত একটি অবজারভেশন কক্ষে নিয়ে যায়। আসামিরা ভিকটিমকে মারতে মারতে অবজারভেশন কক্ষে ঢোকায়। তার ঘাড়, পিঠ ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে রুমের মধ্যে উপুড় করে ফেলে দেয়। কয়েকজন ভিকটিম পিঠে চড়ে বসে, কয়েকজন মাথার ওপর আঘাত করে, কয়েকজন দুই হাত পিঠমোড়া করে ওড়না দিয়ে বাঁধে।’
আসামিদের এমন অমানসিক নির্যাতনে ভিকটিম আনিসুল করিমের মৃত্যু হয়। এজাহারনামীয় ১১-১৫ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত আসামিরা পলাতক। তাদের বর্তমান অবস্থান নির্ণয়পূর্বক গ্রেফতারের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’
দীর্ঘক্ষণ অচেতন থাকা অবস্থায়ও তাকে ভর্তি কার্যক্রম করা হয়নি। কিছুক্ষণ পর ১২টার দিকে তাকে হাসপাতালের লোকজন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু (ব্রট ডেথ) হয় শিপনের।
এ ঘটনায় আদাবর থানায় হত্যা একটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার আনিসুল করিম শিপনের বাবা বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন। মামলা নম্বর ৯।
হাসপাতালটির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালে আনিসুল করিম শিপন হাসপাতালে ঢোকার পরই ছয়-সাতজন তাকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। এ সময় মাথার দিকে থাকা দুজন হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে শিপনের হাত পেছনে বাঁধা হয়। চার মিনিট পর তাকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েন শিপন।
আনিসুল করিম শিপন ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। সর্বশেষ তিনি বরিশাল মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি এক সন্তানের জনক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।






















