খেলাধুলা ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৪০

খেলার ধরন যেমনই হোক, জয় আসতেই হবে!

স্পোর্টস ডেস্ক।।

হোসে মরিনহো নিজেকে কখনোই বদলাননি সময়ের সাথে, কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে ঠিক যেমন নীতিতে চলেছেন এখনও তাই। খেলার ধরন যেমনই হোক, জয় আসতেই হবে- এই মূলনীতিতেই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি বিশ্বাসী।  

চেলসিতে ফিরে এসে দ্বিতীয় মৌসুমে যে বার লিগ জিতলেন, সেবার তাদের খেলা যে ঠিক চ্যাম্পিয়নসুলভ ছিল না- সে ব্যাপারে হয়তো একমত হবেন চেলসির কট্টর সমর্থকেরাও। প্রতি-আক্রমণে খেলা মরিনহো জয়ের জন্য ‘বাস পার্ক রক্ষণ’-এ যেতেও পিছপা হননি। কিন্তু একটা সময় আসলে এসব ‘সেকেলে’ ঘরানার চিন্তাভাবনার জন্য ভুগতে হয়েছে তাকে। মার্কাস রাশফোর্ড, অ্যান্থনি মার্শিয়ালদের নিয়েও তার ইউনাইটেড আক্রমণের দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল বেশ অন্যদের চেয়ে। 

সময়ের সাথে আপনাকে ট্যাকটিক্স বদলাতে হবেই, শুরুতে তা যত রহস্যময়ই হোক না কেন। ২০০৯-এ পেপ গার্দিওলার অপরাজেয় টিকিটাকার বার্সেলোনাকেও বদলাতে হয়েছে খেলার ধরণ। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ট্যাকটিক্স বদলেছেন ডিয়েগো সিমিওনেও। শুরুর দিকের রক্ষণাত্মক ফুটবলের খোলস ছেড়ে তার অ্যাটলেটিকো এখন ইউরোপের অন্যতম আক্রমণাত্মক দল।

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে আক্রমণ এবং নিজের ট্রেডমার্ক ‘গেগেনপ্রেসিং’-এই বেশি মনযোগী ছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। লিভারপুলে শুরুর দিকে একই ট্যাকটিক্স খাটালেও অল্প সময়েই বুঝে গেলেন, রক্ষণ ঠিক না করলে কাজ হবে না। রক্ষণে তার উদাসীনতাকে ক্লপের দূর্বলতা ভাবতেন অনেকেই। সেই ক্লপের লিভারপুল এখন প্রিমিয়ার লিগে রক্ষণের দিক দিয়ে সেরা দল। কিন্তু এসব জায়গায় এসে কিছুটা পিছিয়ে গেছেন মরিনহো।

স্পার্সের হয়ে নিজের পছন্দের ৪-২-৩-১ ফর্মেশন খুব ভালভাবেই খেলাতে পারবেন তিনি। তার ‘ট্রেডমার্ক’ ফর্মেশনের জন্য উপযুক্ত স্কোয়াডও আছে টটেনহামের। কিন্তু প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ঠিক কতটা নতুন ধরণের চিন্তাভাবনা আনবেন মরিনহো, সে ব্যাপারে থাকছে সংশয়। 

মরিনহোর আরেক বড় চ্যালেঞ্জ হল, মাউরিসিও পচেত্তিনো উত্তর মেরু হলে তিনি দক্ষিণ। এই মৌসুম দিয়ে হয়তো মরিনহোকে বিচার করা উচিত হবে না, কিন্তু তিনি নিজেও জানেন; অন্ততপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে স্পার্সকে নিতে না পারলে নর্থ লন্ডনে প্রথম মৌসুমের মার্কশিটে ‘এফ’ গ্রেডটাই হয়তো পাবেন তিনি।