স্পোর্টস ডেস্ক ।।
১৯ বছর আগের দৃশ্যপট! নভেম্বরের এমনই এক সকালে শীত আসবো-আসছি করছে। শিশির মাড়িয়ে টস করতে নেমেছিলেন নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সৗেরভ গাঙ্গুলী। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ১০ নভেম্বরে সেই দৃশ্যপট যেন চোখে ভাসছিল। কারণ আবার যে সেই ভারতেরই মুখোমুখি বাংলাদেশ। এবারের প্রেক্ষাপটাও নতুন। সেবার ছিল অভিষেক টেস্ট। এবার পথ চলা শুরু হলো আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে।
ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার সকালে টস ভাগ্য সঙ্গে ছিল নতুন অধিনায়ক মমিনুল হকের। শুরুতেই ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টাইগার ক্যাপ্টেন। বিরাট কোহলির প্রথমে বোলিংয়ে নামল।
এটাই ছিল সংগত। কারণ এখানে এই উইকেট অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক। এখানে শুরুতে ব্যাট করতে নামলে বাড়তি সুবিধা পাবেন ব্যাটসম্যানরা। যদিও ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি জানাচ্ছিলেন, টস জিতলে তারা আগে বোলিংই নিতেন!
বাংলাদেশ দল ৭ ব্যাটসম্যান ও ৪ জন বোলার নিয়ে খেলতে নেমেছে এই টেস্টে। দলে নেই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।
নেতৃত্বে অভিষেক হয়েছে মমিনুলের। সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ায় তাকে অধিনায়কত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তিনি বাংলাদেশের ১১তম অধিনায়ক।
এই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ২০০০ সালে টেস্টের অভিজাত জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। সেই দলটির বিপক্ষেই আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলতে নামল টাইগাররা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ মানে টেস্ট খেলুড়ে ১০ দেশের মধ্যে (আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড এই লড়াইয়ে নেই) সেরা হওয়ার লড়াই। দু’বছর ধরে চলবে এ প্রতিযোগিতা। এই লড়াইয়ে পয়েন্টের শীর্ষে থাকা দলের হাতেই উঠবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি।
ভারত তাদের মাটিতে শেষ ১০ টেস্টের ৭টিতেই জিতেছে। বাকি তিনম্যাচ ড্র। সর্বশেষ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তারা হারিয়েছে পরিস্কার ৩-০ ব্যবধানে। টেস্টের নাম্বার ওয়ান দল তারাই। বাংলাদেশ আছে নয় নম্বরে।
বাংলাদেশ-ভারত টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে ৯বার। যেখানে ৭টিতে জিতেছে ভারত। বাংলাদেশের অর্জন ২টি ম্যাচ ড্র।
এখন অব্দি চলতি বছর তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। হেরেছে টাইগাররা। চট্টগ্রামে সবশেষ টেস্টে আফগানিস্তানের কাছে হার বড় কলঙ্ক হয়েই আছে। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর এইতো সুযোগ!
বাংলাদেশ একাদশ-
মমিনুল হক (অধিনায়ক), সাদমান ইসলাম, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি, এবাদত হোসেন।






















