খেলাধুলা ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১২

মেন্ডিস-বাবরের পর রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইতিহাসগড়া জয় পেশোয়ারের

স্পোর্টস ডেস্ক
পেশোয়ার জালমির আগের ম্যাচে পিএসএলে অভিষেক হয়েছিল নাহিদ রানার। সেই ম্যাচে ৩ ওভারে ৩০ রানে উইকেটশূন্য ছিলেন বাংলাদেশি এই গতিতারকা। গতকাল (বৃহস্পতিবার) গতির ঝড় তুলে তিনি পেশোয়ারের জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। তার আগে কুশল মেন্ডিসের সেঞ্চুরি ও বাবর আজমের ফিফটিতে করাচি কিংসের বিপক্ষে রেকর্ড ২৪৬ রান তোলে পেশোয়ার। রানা-শরিফুলদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে করাচি মাত্র ৮৭ রানেই গুটিয়ে যায়।

করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে উভয় দলই আসরে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামে। এই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ রানসংগ্রহ (২৪৬, সবমিলিয়ে ষষ্ঠ) এবং সবচেয়ে বড় ব্যবধানে (১৫৯) জয়ের রেকর্ড গড়ল বাবর আজমের পেশোয়ার। এর আগে তার সঙ্গে মিলে মেন্ডিসের ১৯১ রান যেকোনো উইকেটে পিএসএলের সবচেয়ে বড় জুটির রেকর্ড। আর প্রতিটি রেকর্ডের অসহায় শিকারে পরিণত হলো করাচি। যদিও এর আগে নিজেদের তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতেছিল ডেভিড ওয়ার্নারের দল।

বল হাতে নাহিদ রানা ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া শরিফুল ইসলাম ৩ ওভারে ২৩ রানের বিনিময়ে নেন ১ উইকেট। তাদের আগে পেশোয়ারের জয়ের ভিতটা গড়ে দেন বাবর ও মেন্ডিস। অথচ টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা করাচির শুরুটাই হয় বাজেভাবে। রানের খাতা খোলার আগেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে আউট মোহাম্মদ হারিস। এরপর বাবর-মেন্ডিস মিলে গড়েন ১৯১ রানের ম্যারাথন জুটি। এর আগে পিএসএলে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের জুটি গড়ার রেকর্ডেও ছিল বাবরের নাম। ২০২১ আসরে শারজিল খানের সঙ্গে তিনি ওই কীর্তি গড়েন করাচি কিংসের হয়ে।

পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সর্বোচ্চ পাঁচ জুটির চারটিতেই আছেন বাবর। গতকাল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে তিনি ৫১ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৮৭ রান করেন। তবে নিজের দারুণ ইনিংসকে শতকে রূপ দিয়েছেন মেন্ডিস। অথচ পিএসএলে এর আগের ১০ ম্যাচে কোনো ফিফটিও ছিল না তার। শ্রীলঙ্কান এই তারকা ৫১ বলে ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৯ রান করেছেন। এ ছাড়া শেষদিকে ১২ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে আবদুল সামাদ রেকর্ড সংগ্রহ এনে দেন পেশোয়ারকে। করাচির পক্ষে আব্বাস আফ্রিদি ২ উইকেট শিকার করেন।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় বলেই রানের খাতা খোলার আগে আউট করাচির ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম। পরের ওভারে শরিফুল বাউন্স ডেলিভারিতে ফাঁদে ফেলেন সম্প্রতি মদ্যপ হয়ে গাড়ি চালিয়ে নিজ দেশে গ্রেপ্তার হওয়া ওয়ার্নার। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফেরেন তিনি। এ ছাড়া সালমান আগাও ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে করাচি। নিজের প্রথম ওভারে স্রেফ ৪ রান দেওয়া শরিফুল দ্বিতীয় ওভারে হজম করেন দুটি বাউন্ডারি। এই ওভারে দেন ১১ রান। পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে নাহিদের প্রথম চার বলে রানই নিতে পারেননি আজম খান। পঞ্চম বলে নেন সিঙ্গল। ওভারে রান ওই একটিই।

ইনিংসের সপ্তম ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পান নাহিদ। সাদ বেগ শর্ট বল পুল করার চেষ্টায় ওপরে তুলে দেন। নিজেই ক্যাচ নেন রানা। এই ওভারে শেষ বলে চার মারেন মইন আলি, রান আসে সব মিলিয়ে ৫। ১৪তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে রান না দিয়ে খুশদিল শাহ ও অ্যাডাম জাম্পার উইকেট নেন বাংলাদেশি তারকা। খুশদিল শর্ট বলে কিপারের হাতে ধরা এবং জ্যাম্পা বোল্ড হয়েছেন। নিজের কোটার শেষ ওভারে কেবল এক রান নিয়ে বোলিং শেষ করেন নাহিদ। ১৬.১ ওভারেই মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে যায় করাচির ইনিংস।

রানা ছাড়াও পেশোয়ারের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন ইফতিখার আহমেদ ও সুফিয়ান মুকিম। এই জয়ে ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠে গেল পেশোয়ার। সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে করাচির অবস্থান চতুর্থ।