স্পোর্টস ডেস্ক : এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাবর আজমের নেতৃত্বে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও উদীয়মান ক্রিকেটারের সমন্বয়ে পাকিস্তান দলটিকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণই মনে হচ্ছে সবার। যার ফলে ৩১ বছর পর আরেকটি শিরোপা হাতে তুলে নেওয়ার স্বপ্নে বিভোর এখন পাকিস্তানিরা। ভারতের মাটি থেকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেত পারবে কি বাবর আজমের দল? সময়ই বলে দেবে। আপাতত তাদের ফেবারিটের তালিকায় রেখেই সবার হিসাব-নিকাশ।
স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে থেকেই ক্রিকেট জাতি হিসেবে পরিচিতি ছিল পাকিস্তানের। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার আগেই দেশটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছিল ১৯৩৫ সালে। করাচিতে সিন্ধু ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে খেলা হয়েছিল। সে সময়ে এ ম্যাচটি পাঁচ হাজার দর্শক উপভোগ করেছিলেন। গোলাম মোহাম্মদ ম্যাচটিতে সিন্ধ দলের নেতৃত্ব দেন।
স্বাধীনতা পাওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটের দ্রুত উন্নতি হয়। বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে। শতকরা হিসাবে দেশটি ওয়ানডে জয়-পরাজয়ের হিসেবে চতুর্থ স্থানে। টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় এবং টেস্ট ক্রিকেটেও চতুর্থ।
রাজনৈতিক কারণে বৈরিতা তো আছেই, ক্রিকেট অঙ্গনেও ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কটা দা-কুমড়া। যদিও একটা সময় ভারতের সুপারিশেই কিন্তু পাকিস্তান টেস্ট অঙ্গনে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সব আসরে অংশ নেওয়া পাকিস্তান এ পর্যন্ত ৮০ ম্যাচ খেলে ৪৫টিতে ম্যাচে জয় পেয়েছে। ৩২ ম্যাচে হেরেছে। বিশ্বকাপে দলটি পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলেছে। দুইবার পৌঁছেছে ফাইনালে। ওয়ানডেতে পাকিস্তান এ পর্যন্ত ৯৫৮ ম্যাচে মাঠে নেমেছে। জয় ৫০৭ ম্যাচে, হেরছে ৪২১টিতে।
সবচেয়ে কম ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি সম্ভবত শুধু পাকিস্তানেরই। ১৯৯২ সালে কাপ জয়ের পথে তারা মাত্র ছয়টি ম্যাচ জয় করেছিল। শুরুতে পয়েন্ট হারাতে হারাতে এমন অবস্থা হয়েছিল, যে কোনো সময় তাদের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা।
প্রথম পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটাতে জয় পেয়েছিল তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ তিন ম্যাচে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ইমরান খানের দল। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড এবং ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের কাতারে নাম লেখায়।
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগপর্যন্ত অপরাজিত ছিল নিউজিল্যান্ড। সাত ম্যাচের সাতটিতেই জয় কিউইদের। গ্রুপ পর্বের অষ্টম ও শেষ ম্যাচে এসে হার মানে পাকিস্তানের কাছে। সেমিফাইনালে উঠেও মুখোমুখি হয় পাকিস্তানের এবং ইনজামামের ব্যাটিংয়ে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
এবারের টুর্নামেন্টের অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। ১১ নভেম্বর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে তাদের গ্রুপ পর্ব। এর মাঝে তারা যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
প্রতিবার শক্তিশালী দল নিয়ে হাজির হলেও বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাফল্য হাতেগোনা। শুধু বিশ্বকাপে নয়, অন্য প্রতিযোগিতায়ও একই অবস্থা। এশিয়া কাপে মাত্র দুইবার শিরোপার দেখা পেয়েছে তারা, তিনবার হয়েছে রানার্স আপ।
দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে এবার পাকিস্তান বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এসেছে। একঝাঁক দুর্দান্ত ক্রিকেটারের ওপর ভর পাকিস্তান এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর এ স্বপ্নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাবর আজম।
ওয়ানডে ব্যাটার র্যাংকিংয়ের সেরা পাঁচজনের তিনজনই পাকিস্তানের। বাবর আজমের পাশাপাশি অন্য দুই ব্যাটার হলেন ইমাম উল হক ও ফাখর জামান। তাদের সঙ্গে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইফতিখার আহমেদের যোগ চমৎকার একটা ব্যাটিং লাইন তৈরি করেছে পাকিস্তান। স্বাভাবিকভাবেই এ ব্যাটাররা যে কোনো দলের বোলারদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন এটাই স্বাভাবিক।
পাকিস্তানের বোলিং ডিপার্টমেন্টও যথেষ্ট শক্তিশালী। দারুণ এক পেস ডিপার্টমেন্ট নিয়ে তার বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে এ ডিপার্টমেন্টের অন্য সদস্যরা হলেন হারিস রউফ, হাসান আলি, মোহাম্মদ ওয়াসিম- প্রমুখ। তাদের সঙ্গে স্পিনার হিসেবে রয়েছেন শাদাব, উসামা মির এবং মোহাম্মদ নওয়াজ। এ বোলাররা যে কোনো ব্যাটিং লাইনে ধস নামানোর সামর্থ্য রাখে। তবে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থা খুব একটা সুবিধাজনক নয়। শীর্ষ ১০ বোলারের তালিকায় আছেন শুধু আফ্রিদি। তাও সবার শেষে।
তবে দল হিসেবে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে দারুণ অবস্থানে থেকে পাকিস্তান বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ছিল তারা। কয়েকদিন আগে নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে।
বিশ্বকাপের আগে একের পর এক সিরিজে সাফল্যের দেখা পেয়েছে। সর্বশেষ ১০ সিরিজের সিংহভাগে ম্যাচে সাফল্যের হাসি হেসেছে পাকিস্তান। ১০ সিরিজের আটটিতেই জিতেছে তারা। হেরেছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের কাছে। ইংল্যান্ডের সিরিজটি অ্যাওয়ে থাকলেও নিউজিল্যান্ডের সিরিজটি ছিল হোম। আট সিরিজে তারা হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে।
তবে এশিয়া কাপটা গেলো হতাশার। ভারতের কাছে দুইবার হারতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কাছে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে সুপার ফোর থেকে। অর্থাৎ ফাইনালে উঠতে পারেনি তারা। এরপর ভারতে এসে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটিতে নিউজিল্যান্ড এবং দ্বিতীয়টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে বাবর আজমরা। এবার বিশ্বকাপ শুরু করার লক্ষ্য নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় দিয়ে।
আমাদের কাগজ / এইচকে






















