খেলাধুলা ১৭ জুলাই, ২০২৩ ০৪:৪৯

২৯ জুলাই টাইগারদের ক্যাম্প শুরু, তামিম কি থাকবেন?

স্পোর্টস ডেস্ক : এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে আছে তাই এবার আফগানিস্তান সিরিজের পর আগামী ২৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে টাইগারদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। আপাতত দেড় মাসের ছুটিতে আছেন অবসর ভেঙে ফেরা টাইগার দল নেতা তামিম ইকবাল। তিনি কি কন্ডিশনিং ক্যাম্পে থাকবেন? দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানালেন, পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মেডিকেল টিমের সিদ্ধান্তের ওপর।

তামিম যেহেতু চোটে আছেন, তাই তাকে নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ নান্নু। তার কথা, এটা তো মেডিকেল টিম আমাদের আপডেটটা দিবে। এই মুহূর্তে আমাদের জন্য বলা কঠিন। মেডিকেল টিম যখন আমাদের আপডেট দেবে, তখনই আমরা বলতে পারবো।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে তাওহিদ হৃদয়, শামীম পাটোয়ারীর মতো তরুণরা ভালো করেছেন। তরুণদের এই উঠে আসাকে দলের জন্য ভালো দিক বলে মনে করছেন নান্নু।

প্রধান নির্বাচক বলেন, অবশ্যই তরুণ খেলোয়াড়েরা ভালো করা দলের জয় যথেষ্ট ভালো দিক। আশা করছি এরা কন্টিনিয়াস এই প্রসেসে থাকবে। আশা করছি আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে সব ফরম্যাটেই ভালো করবো।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আফিফ হোসেনকে ওপেনে পাঠানো হয়। আফিফ ওপেনিংয়ে খারাপ করেননি। লিটন দাসের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়েন তিনি।

আফিফকে ওপরে পাঠানো হয়েছিল কেন? এমন প্রশ্নে নান্নু বলেন, ‘এটা তো আলোচনা হয় টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে, কখন কাকে কি করা হবে। আর সে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

তাহলে কি আফিফকে ওপরে খেলাতে পারলেই ভালো? নান্নুর উত্তর, ‘জাতীয় দলে কিছু খেলোয়াড়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত কিছু জায়গা আছে। সে জায়গা ডিঙিয়ে আসাটা একটু কষ্ট। আসলে প্রতিটি খেলোয়াড়ের মন মানসিকতা ওভাবেই স্থির করা উচিত যখন যেখানে সুযোগ আসে যেন ভালো খেলতে পারে, নিজেকে মেলে ধরতে পারে। এই মানসিকতা থাকলে যেকোন জায়গায় ভালো করবে।’

তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘ওকে তো অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকেই এইচপিতে নিয়ে নার্সিং করা হচ্ছিল। এইচপিতে নার্সিংয়ের পর 'এ' দলে ভালো খেলেছে, জাতীয় দলে ভালো খেলছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। এইচপির বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই এখন জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ জায়গার নার্সিংটা আমাদের যথেষ্ট কাজে আসছে।’

‘নির্বাচক প্যানেল সবসময় সন্তুষ্ট যখন যে খেলোয়াড়কে আমরা নিব, সে খেলোয়াড় ভালো খেলবে তখন। একটা জিনিসই যেন মাথায় রাখে আগামী ১০ বছর জাতীয় দলকে সেবা দিবে। টেকনিক্যাল দিকগুলো উন্নতি করতে পারলে ওই খেলোয়াড়ের উপর আস্থা রাখা যায়।’

নির্বাচক হিসেবে চাপ অনুভব করেন কি? এমন প্রশ্নে নান্নুর সরল স্বীকারোক্তি, ‘চাপ তো কাজ করে। শুধু বিশ্বকাপ বলেই না, প্রতিটি সিরিজেই চাপ থাকে। কারণ ভালো খেলাটা খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেরকম এগিয়েছি অন্য দলও এগিয়েছে। সেসব দিক মাথায় রেখেই দলটাকে প্রস্তুত করতে হয়।’

খেলোয়াড়দের ফিটনেস, কাকে কখন বিশ্রাম দিতে হবে এই বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হয় জানিয়ে নান্নু বলেন, ‘এখন ব্যাক টু ব্যাক অনেক খেলা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তো এই জায়গাটাও মাথায় কাজ করে। কারণ খেলোয়াড়দের লম্বা সময়ের সেবা পেতে তাদের বিশ্রামের একটা ব্যাপার আছে। এসব আমলে নিয়েই দল প্রস্তুত করা হয়।’

‘আমি আশা করছি আগামী কন্ডিশনিং ক্যাম্পটা সাহায্য করবে ফিটনেসের ব্যাপারে। এশিয়া কাপ খুব গুরুত্বপূর্ণ, এশিয়া কাপের আগেই সবাইকে পুরোপুরি সুস্থ পাবো আশা করছি। সেরা দলটাই দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ’-যোগ করেন প্রধান নির্বাচক।

আমাদেরকাগজ / এইচকে