স্পোর্টস ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার ১৪২ রানে হেরেছে টাইগাররা। এ জয়ের মধ্য দিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে হাশমতউল্লাহ শহিদীর দল। সিরিজের আর একটি ম্যাচে হারলে ঘরের মাঠে লজ্জাজনক ধবলধোলাই হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ৪৩.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবাদত হোসেন খেলার মাঝে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে যাওয়াতে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় আফগানরা। ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে পাত্তাই পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশি বোলাররা। দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে ম্যাচের ৩৭তম ওভারে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম উইকেট তোলেন সাকিব আল হাসান। তার লেগ বিফোরের ফাঁদে সাজঘরের পথ ধরেন ১২৫ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলা গুরবাজ। এর পরের ওভারেই এবাদতের বলে আউট হন তিনে নামা রহমত শাহ। ৩৯তম ওভারে টাইগার শিবিরের বোলিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদী। এরপর মিরাজের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। এক প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারালেও আরেক প্রান্তে থাকা ইব্রাহিম জাদরান ১১৯ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন। শতরানে পৌঁছানোর পরের বলেই তিনি মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন। মোহাম্মদ নবী বাদে এরপর আর কেউ ২ অঙ্কের দেখা পাননি। শেষ পর্যন্ত তারা ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে।
আফগানদের দেয়া ৩২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই ধাক্কা খায় চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। মাত্র ৮ রান করেই আউট হন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে রিভিউ নিয়ে তিনি জীবন পান। তবে সেই জীবন তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। ফজল হক ফারুকির করা পঞ্চম ওভারেই তিনি প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। এর পরপরই সাজঘরের পথ ধরেন তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। টপ অর্ডারের এই ব্যাটার স্কোরবোর্ডে মাত্র ১ রান করেই মুজিবুর রহমানের বলে বোল্ড হন। এরপর তাওহিদ হৃদয় ও নাঈম শেখ ম্যাচের হাল ধরার চেষ্টা করেন। সেই চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নাঈম ফিরে যান ২১ বলে ৯ রানের ইনিংস খেলে। টাইগাররা এরপর আর আফগান বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলাদেশের হয়ে লড়াই করতে পারতেন সাকিব আল হাসান। তবে ১৭তম ওভারে রশিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে হৃদয় ফিরে গেলে এই জুটিও ব্যর্থ হয়। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি করা হৃদয় গতকাল ৩৪ বলে ২ চারে মাত্র ১৬ রান করে বিদায় নেন। এর পরপরই মোহাম্মদ নবীর বলে ২৫ রান করে আউট হন সাকিব আল হাসান। আফিফ হোসেন বিদায় নেন গোল্ডেন ডাক মেরে। এর মধ্যেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। সিরিজ হাতছাড়া করা তখন ছিল সময়ের ব্যপার মাত্র। এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম এবং বোলিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই ব্যাটার মিলে বাংলাদেশের রান অনেকটা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। রক্ষণধর্মী খেলে ৬২ বলে অর্ধশত রানে পৌঁছান মুশফিক। গতকালের ম্যাচটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ২৫০তম ওয়ানডে ম্যাচ। এই মাইলফলক স্পর্শ করা ম্যাচে তিনি এর আগে দুর্দান্ত একটি স্ট্যাম্পিং করে রশিদ খানকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন। দলের এই সিনিয়র ক্রিকেটার শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের স্কোরবোর্ডে ৬৯ রান যোগ করেন। এরপর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি টাইগারদের ইনিংস। মুশফিক আউট হওয়ার পর ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
আমাদেরকাগজ/এইচএম






















