খেলাধুলা ১৩ এপ্রিল, ২০২৩ ০৫:৪১

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনাই ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করেছে: আকরাম খান

স্পোর্টস ডেস্ক : একটা সময় ফুটবল বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে মাতিয়ে রাখতো। সেই জায়গায় ক্রিকেটের অবস্থান ছিল খুবই নড়বড়ে। ১৯৯৪ সালে আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিব্রতকর পরিস্থিতির মাঝে পড়ে যান ক্রিকেট সংগঠক থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররাও। ক্রীড়াঙ্গনের আমূল পরিবর্তনটা ঘটেছে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর। ক্রিকেটের নবজাগরণের মূল ভিতটাই স্থাপন করে দেয় এই ট্রফি।

সেদিন ঐতিহাসিক সেই জয়টা মোটেও সহজ ছিল না। পাহাড়সম চাপ নিয়ে কুয়ালালামপুরে কেনিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। নেতৃত্বে ছিলেন আকরাম খান। বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচটি গড়িয়েছে দুই দিনে। বাংলাদেশের জয়ের জন্য ১ বলে প্রয়োজন ছিল ১ রান- এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে তখন হাসিবুল হোসেন শান্ত। মার্টিন সুজি সেদিন শান্তকে আটকাত পারেননি। প্রয়োজনীয় রান নিয়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে লাল-সবুজের দেশ। বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল আইসিসি ট্রফি জয়ের ২৬ বছর পূর্ণ হয়েছে।

আকরাম খান বলেন: আজ তো ২৬ বছর হয়ে গেলো। বাংলাদেশে এখন এত বড় বড় খেলোয়াড়; এসব দেখে ভালো লাগে। ১৯৯৭ সালে আমরা আইসিসি ট্রফিতে কোয়ালিফাই না করতাম- তামিম, সাকিব, মাশরাফি, তাসকিন, মোস্তাফিজদের এভাবে দেখতে পেতাম না। হয়তো তারা খেলতো, কিন্তু এই পর্যায়ে এভাবে ডমিনেট করতে পারতো না। এজন্য শুকরিয়া আদায় করি, শুরুটা আমাদের দিয়েই হয়েছিল। এখন যে পর্যায়ে হকি আছে, ব্যাডমিন্টন আছে, ক্রিকেট সেই পর্যায়েই ছিল। কেননা তখন আমাদের কোন স্ট্রাকচারই ছিল না। কোন মাঠ ছিল, ছিল না অনুশীলনের জায়গা। ৬ মাসের জন্য আমরা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম পেতাম খেলার জন্য, ওখানের সুযোগ সুবিধা নিয়েই খেলতাম। সেই জায়গা থেকে আজ ক্রিকেট এমন স্থানে চলে এসেছে যে অনেক মাঠ, এতগুলো ইনডোর, সুযোগ-সুবিধা; এসব চিন্তা করলে খুবই ভালো লাগে।

তিনি বলেন: খুব স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ হতাশ ছিলাম। ওরা অনেক বেশি রান করেছিল। সবার মধ্যে ভীষণ অস্থিরতা কাজ করছিল। স্বস্তি নিয়ে ঘুমাতে পারিনি। এর মধ্যে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে মাঠের আউটফিল্ড আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। সবমিলিয়ে নানান টেনশনতো ছিলই। সবচেয়ে বড় টেনশন ছিল ব্যর্থতার ভয়। এবার যদি ব্যর্থ হই, তাহলে হয়তো ক্রিকেট নিয়ে এগিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন হবে।

সাবেক অধিনায়ক বলেন: ফাইনাল ম্যাচটি আমাদের সবার মনে আছে। আপনারা জানেন কেনিয়া শক্তিশালী দল ছিল। ওদের ব্যাটসম্যান-বোলাররাও উঁচু মানের। ওদের ফিজিক্যাল ফিটনেসও ভালো। কার্টেল ওভারে ১৬৬ রান করা সেই সময় সহজ লক্ষ্য ছিল না। এছাড়া বৃষ্টির কারণে মাঠের আউটফিল্ড স্লো হয়ে গিয়েছিল। পাইলট ও শান্ত খুব ভালো খেলেছে। পাইলট প্রথম বলে ছয় মেরেই ম্যাচটা আমাদের দিকে নিয়ে এসেছে। পুরো টুর্নামেন্ট আমরা টিম হিসেবে খেলতে পেরেছিলাম। দলের সবাই আমাকে সাহায্য করেছে। তাতে অধিনায়ক হিসেবে কোনও চাপ অনুভব করিনি। বিসিবি থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট ও সাংবাদিকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।  

তিনি আরও বলেন: আমরা ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফির শুরু থেকেই ভালো খেলছিলাম।  বৃষ্টির জন্য আমাদের একটি পয়েন্টে হারাতে হয়েছিল। ওই ম্যাচটি যদি টাই হতো, তাহলে আমরা সেমিফাইনালে কোয়ালিফাই করতাম না। আমাদের জিততেই হবে-এমন একটি সমীকরণ সামনে ছিল। ব্যাটিংয়ের শুরুতে আমরা চার উইকেট হারিয়ে ফেলি। ওই হারতে বসা ম্যাচটি আমরা জিতে যাই শেষ পর্যন্ত। আমি ম্যাচ সেরা ইনিংস খেলেছিলাম। এই ইনিংসের কথা মনে পড়লে আমার গর্ব হয় যে, এমন একটা ইনিংস দেশের জন্য খেলতে পেরেছি। সত্যি কথা বলতে ওই জয়টা আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজন ছিল।

২৬ বছর হয়ে গেলো…। লম্ব সময় চলে গেছে। আমি মনে করি একটা ‘গেট টুগেদার’ হওয়া উচিত ছিল। ক্রিকেট বোর্ড বলেন আর কোয়াব, কাউকে না কাউকে এই উদ্যোগটা নেওয়া উচিত ছিল। নতুন জেনারেশনকে এই জিনিসগুলো জানানো উচিত। আমার মনে হয় এই ব্যাপারে বোর্ডকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। সবার জানা উচিত আজকের এই ক্রিকেট আগে কোথায় ছিল, কারা এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। এসব কিছু বর্তমান জেনারেশন না জানলে বড় একটা গ্যাপ হয়ে যাবে।

আমাদেরকাগজ/ এইচকে