খেলাধুলা ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৪:১৪

বাংলাদেশের সংবিধানে যা বলা আছে 'ক্যাসিনো' সম্পর্কে

ডেস্ক রিপোর্ট।। 

ক্যাসিনো মানেই টাকার ছড়াছড়ি। যেখানে জুয়ার নেশায় মেতে থাকেন সবাই। পৃথিবীর অনেক দেশেই জুয়া খেলার ব্যবসা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে ক্যাসিনো অবৈধ। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা মনোরঞ্জনের জন্য এখানে আসেন।

সম্প্রতি র‍্যাবের অভিযানে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার এবং রাজধানীর বিভিন্ন অবৈধ ক্যাসিনোয় (জুয়া খেলার আসর) অভিযানের পর দেশের টক অব দ্যা কান্ট্রি এই ক্যাসিনো।

র‍্যাবের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫০টিরও বেশি ক্যাসিনো রয়েছে। যেখানে জুয়ার পাশাপাশি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবি, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর তখনকার সরকার দেশে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করেছিল।

কারণ ১৯৭২ সালের সংবিধানে জুয়া বন্ধের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাষ্ট্রকে নির্দেশনা দেয়া আছে।

যদিও পরবর্তীকালে এ বিষয়ে আর নতুন কোনো আইন হয়নি, তাই এখনো কার্যকর রয়ে গেছে দেড়শ বছরের বেশি পুরনো একটি আইন।

 

এদিকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশে সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স বা পারমিট নিয়ে মদ বিক্রি ও পানের সুযোগ আছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী জোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘মদ বিক্রি বা পানের মতো ক্যাসিনোর অনুমোদন বা লাইসেন্স দেয়ার কোনো ব্যবস্থা বা সুযোগই বাংলাদেশের কোনো আইনে নেই।’

জুয়ার বিষয়ে যে আইনটি কার্যকর আছে সেটি হলো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন ১৮৬৭’, সেখানে অবশ্য ক্যাসিনো বিষয়ে কিছু বলা নেই।

তবে ওই আইনে - ‘কেউ তার ঘর, তাঁবু, কক্ষ, প্রাঙ্গণ বা প্রাচীরবেষ্টিত স্থানের মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবহারকারী হিসাবে যেকোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে বা স্বেচ্ছায় অন্য লোককে, উক্ত স্থানকে সাধারণ জুয়ার স্থান হিসাবে ব্যবহৃত করিতে দিলে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান’ রাখা হয়েছে।

এমনকি ‘তাস, পাশা, কাউন্টার অর্থ বা অন্য যেকোনো সরঞ্জামসহ যেকোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত বা উপস্থিত দেখিতে পাওয়া গেলেও’ শাস্তি দেয়ার সুযোগ আছে এই আইনে।

বড়ুয়া বলেন, ‘ঢাকায় বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে সবার নাকের ডগাতেই এসব চলেছে, কিন্তু অন্য অনেক বিষয়ের মতো এখানেও আইনের প্রয়োগ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষকে অভিযানে আটক করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে। কিন্তু জুয়া খেলার মেশিনগুলো কারা আমদানির অনুমতি দিয়েছে? কোন আইনে দিয়েছে? রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস কোন আইনে এগুলো আনার অনুমতি বা ছাড়পত্র দিয়েছে? কিভাবে পরিবহন হলো? কারা সহযোগিতা করেছে আর কারা কোন আইনে লাভবান হয়েছে-এগুলোও খুঁজে বের করা উচিত’।