খেলাধুলা ১১ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৭:০৫

পর্তুগালকে বিদায় করে আনন্দে ভাসছে মরক্কো

স্পোর্টস ডেস্ক : শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। চলতি বিশ্বকাপে মরক্কোর রূপকথা ফুটবলপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে চলেছে। তবে এটি মন ছুঁয়ে গেছে আরব বিশ্বের। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায়ও খুশির বন্যা বয়ে এনেছে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশ মরক্কো। ফুটবল বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আরব ও আফ্রিকান দেশ শেষ চারে পৌঁছেছে। গোটা মরক্কো যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নক আউটেই ২০১০ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদায় দিয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছে। তখনই লেখা শুরু হতে থাকে মরক্কো রূপকথা। এরপর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের বিদায় দিয়ে রূপকথার নতুন পর্ব লেখার অপেক্ষায় মরক্কো। একের পর এক চমক উপহার দিয়ে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ওয়ালিদ রেগরাগির দল। অবিশ্বাস্য সাফল্যে সমর্থকদের আনন্দ তাই বল্গাহীন। মরক্কোন সমর্থকদের উল্লাসও তাই বাঁধভাঙা।

ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বলেই আল থুমামা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ দেখতে হাজারো সমর্থকদের সমাগম হয়েছিল। অনেকে টিকিট না পেয়ে মাঠের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। লক্ষ্য ছিল যে করেই হোক প্রিয় দলের জয় উৎসবে গা ভাসানো। শেষ পর্যন্ত সাফল্য যখন হাতের মুঠোয়, নিজেদের আবেগ আর কেউ ধরে রাখতে পারেনি। তার পর তো পুরো কাতার জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। এমনিতে সেখানে আরব দেশের নাগরিকদের আধিক্য কম নয়। তার ওপর মরক্কোর জয় কাতারের রাস্তাঘাটের উন্মাদনায় বাড়তি রং চড়িয়েছিল!

অনেককে দেখা গেছে গাড়িতে মরক্কোর পতাকা লাগিয়ে দল বেঁধে আনন্দ উৎসব করতে। রাবাত থেকে আসা এক সমর্থকের(আলিয়া আব্দেল করিম) কাছে যেতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বললেন, ‘আসলে এটা আমাদের গর্বের একটি দিন। বিশেষ একটি দিন। ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটা শুধু আমাদের মরক্কোনদের জন্য নয়, আরব অঞ্চলসহ আফ্রিকানদের জন্যও। এটা আসলে সম্মানের যে সবগুলো আরব দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি আমরা।

মরোক্কানদের এমন উৎসবের উল্টো পিঠে রাতটা বিষাদে কেটেছে পর্তুগালের। বিশেষ করে বড় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্যে অগণিত ফুটবল দর্শককে কষ্ট দিয়েছে। সেই মরক্কো সমর্থক আলিয়ার কাছে সিআরসেভেন প্রসঙ্গ তুলতেই সমবেদনা ঝরেছে তার কথায়, ‘এটা অনেক দুঃখের বিষয় রোনালদোকে এবার আর কোনও ম্যাচে দেখা যাবে না। সবাই তাকে দেখেছে কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিতে। এমন দৃশ্য দেখতে মোটেও ভালো লাগেনি। তবে নতুন যারা উঠে আসছেন, তারা অবশ্যই রোনালদোকে দেখে অনুপ্রাণিত হবেন। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই।’

কথা বলতে বলতেই পতাকা নিয়ে উৎসবে যোগ দেন আরেক দল সমর্থক। যারা আবার ডালায় সাজিয়ে সবাইকে চকলেট বিলিয়েছেন। এ যেন বাঁধাভাঙা আনন্দেরই বহিঃপ্রকাশ। আমিন আল ফাত্তাহ তো বলেই দিয়েছেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটা বড় উৎসবের দিন। আমরা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলছি। আসলে এই আনন্দ আমাদের একার নয় সবার। ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না কতটা উৎফুল্ল আমরা।’

এখন সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াই মরক্কোর। সেখানে আরও বড় চমকের অপেক্ষায় মরক্কোনরা।

আমাদেরকাগজ/ এইচকে