বিনোদন ডেস্ক ।।
পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের রংপুরে হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতের দার্জিলিংয়ে। মাত্র সাত বছর বয়সে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসার ধারাবাহিক সিরিয়াল ‘সিঁদুর খেলা’র ‘সিমন্তী’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে মন জয় করে নেন দুই বাংলার মানুষের। তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা সাহা। তবে অভিনয় দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এবার তিনি নাম লিখাতে যাচ্ছেন রাজনীতিতে।
মিষ্টি হাসির শ্বেতা সাহা অল্পদিনেই দর্শকের প্রিয় হয়ে উঠলেন তার অসাধারণ অভিনয়ের গুণ দিয়ে। একের পর এক অভিনয় করেন- ‘তুমি রবে নীরবে’, ‘জড়োয়ার ঝুমকো’ এবং ‘কনক কাঁকন’ সিরিয়ালে। প্রতিটি সিরিয়ালেই তিনি অর্জন করেন যথেষ্ট দর্শকপ্রিয়তা।
তার বড় বোন রুজিরা বর্তমানে দার্জিলিংয়ের তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় সাংসদ। বোনের জন্য ভোটের কাজ করতে গিয়ে শ্বেতা নিজেও জড়িয়ে গেছেন রাজনীতিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রীন সিগন্যাল মিলেছে তার। এই প্রসঙ্গে শ্বেতা জানান, সম্ভাবনা আছে আগামী লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ভোট যুদ্ধে নামার।
ভোটের মাঠে নামার বিষয়ে শ্বেতা জানান, তার অভিনয়ে আসার পেছনে মা ও দিদির অনুপ্রেরণা ছিল বেশি। অভিনয়ের বাইরে নাচও করেন তিনি। এখন যোগ হয়েছে রাজনীতি। সামনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন তিনি। এরপর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান। শ্বেতার এমনিতেই পড়াশোনায় এক বছর বিরতি পড়ে গেছে। তাই পড়ালেখা নিয়ে মহাব্যস্ত তিনি। পাশাপাশি চলছে নির্বাচনী জনসংযোগ।
শ্বেতা বলেন, নিজেদের প্রোডাকশন হাউজের বাইরে কাজ করার ইচ্ছে আমার নেই। আমাদের নিজেদের প্রোডাকশন থেকে রাখি বন্ধন, টাপুর টুপুর, আঁচল, খোকাবাবু, ভজ গোবিন্দ ইত্যাদি জনপ্রিয় সিরিয়াল নির্মিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রচুর অফার আসে। মুম্বাই থেকেও অফার আসে। কিন্তু আমি সিনেমায় কাজ করতে ইচ্ছুক নই।
এছাড়াও সময়-সুযোগ হলে তিনি মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশে আসেন বলেও জানান। বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গকে তার অনেক সময় একই মনে হয়। যদিও ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে বিরক্ত তিনি। শ্বেতা বলেন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানকে আমার বেশ পছন্দ। এ ছাড়া নায়করাজ রাজ্জাকের ছবি দেখেছি। সালমান শাহ-শাবনূর জুটির ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিটি আমার মন ছুঁয়ে গেছে।’
শুধু বাংলা নয়, হিন্দি সিরিয়ালেও শ্বেতা অভিনয় করেছেন বলে জানান। ‘জয় কানা হে লাল কি’ সিরিয়ালে ডালি চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। এটি এবং ‘জড়োয়ার ঝুমকো’ এ দুটো সিরিয়াল তাকে বেশ পরিচিতি এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শ্বেতা অনেক পুরস্কার পেয়েছেন অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে। মজার বিষয় হলো – এখন পর্যন্ত যতগুলো মনোনয়ন পেয়েছেন সবগুলোয় পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
শ্বেতার বাবা মারা যাওয়ার আগে কলকাতায় ‘সম্পর্ক’ নামক একটি অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার দিদি রুজিরা সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার পর শ্বেতা ও তার মা সেতু দেখভাল করেন সেই অনাথ আশ্রমের। বাবার মৃত্যুর পর শ্বেতারা কলকাতায় চলে আসেন পরিবারসহ। অভিনয়, রাজনীতি আর পড়াশোনা এই নিয়ে তার দিনকাল চলছে বেশ।






















