এয়ার হোস্টেস চক্র নোবেলকে মাদক দেয়: স্ত্রী
ছবি - সংগৃহীত
আমাদের কাগজ ডেস্ক: ‘সারেগামাপা’ খ্যাত গায়ক নোবেলকে গ্রেপ্তারের পর পর এবার বেড়িয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর আগে, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে মতিঝিল থানায় এই গায়কের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
এত দিন তার স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ দাবী করেছিলেন 'নোবেল প্রতিদিন ৪ লাখ টাকার মাদক সেবন করেন'। তবে কোথা থেকে আসত? কেইবা এই মাদক সরবরাহ করতেন এবার তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন তিনি।
স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ জানান, গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলকে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করা বিমানের এয়ার হোস্টেস চক্র মাদক সরবরাহ করে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এই চক্রের একজন নোবেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। সে তাকে মাদক সাপ্লাই দেয়। এমনকি তাদের এই সকল বিষয় নিয়ে আমি কথা বলায় আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেয়া হতো, তবে আমি নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালসাবিল।
প্রতারণার মামলায় নোবেলকে গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রী সালসাবিলকে মিন্টো রোডে ডাকে পুলিশ। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নোবেলের স্ত্রী।
নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে সালসাবিল বলেন, ‘নোবেল মাদক সেবন করে বাসায় এসে আমাকে নির্যাতন করত। একদিন ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ ডাকি। তারা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
‘নোবেল সেই পুলিশ সদস্যদের সামনে স্বীকার করেছে মাদক সেবনের কারণে আমাকে মারধর করে। এরপর আমি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।’
তিনি বলেন, ‘তার (নোবেল) ও আমার পরিবার আমাদের বিষয়টা নিয়ে বসে। তখন সে প্রতিশ্রুতি দেয়, সে এইসব থেকে ফিরবে। তার আশেপাশের মহল, যাদের প্ররোচনায় পড়ে মাদক পাচ্ছে, ওইটার ভেতর থেকে সে বেরিয়ে আসতে পারে নাই, যার কারণে আজকের এই অবস্থা। আজ ডিবি পুলিশ থেকে আমাকে ডাকা হয়েছে। আমি তাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি।’
নোবেলের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী বলল ডিবি
নোবেলের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিবির কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘নোবেল একজন প্রতিষ্ঠিত গায়ক, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হাই স্কুলে সাবেক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গান গাওয়ার চুক্তি করে। তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেয়।
‘নিজেও যাওয়ার কথা জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, কিন্তু অনুষ্ঠানে সেখানে যায়নি। টাকা চাওয়ার পরে তাও ফেরত দেয়নি। এই ঘটনার পরে মামলা হয়, কিন্তু সে মামলার পরেও পুলিশের কাছে আসে না কিংবা আদালতেও আত্মসমর্পণ করেনি।’
এ ছাড়া নোবেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে মঞ্চ অনুষ্ঠানে গিয়ে ভাঙচুর, মাতলামি করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান ডিবির প্রধান।
আমাদের কাগজ/এমটি