বিনোদন ১১ মে, ২০২৩ ০৯:২৮

নিজেকে নিয়ে যা বললেন ঋতাভরী চক্রবর্তী

বিনোদন ডেস্ক : আগামীকাল শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছেন আবীর চট্টোপাধ্যায় ও ঋতাভরী চক্রবর্তী অভিনীত সিনেমা ‘ফাটাফাটি’। পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের এ ছবি করতে গিয়ে ২০ কেজি ওজন বাড়িয়েছেন ঋতাভরী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের সঙ্গে ওজন বাড়ানোসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এ চিত্রনায়িকা।

একটা ছবির জন্য ২০ কেজি ওজন বাড়িয়ে ফেলা একজন নায়িকার পক্ষে সহজ নয়, রাজি হলেন কেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে ঋতাভরী বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় সার্জারির পর এমনিতেই ৫-৬ কেজি ওজন বেড়ে গিয়েছিল। সেই চেহারা দেখেই অরিত্র আমায় ছবির প্রস্তাব দেয়। সঙ্গে আরও ১৯-২০ কেজি বাড়াতে বলে। হাতে তখন আমার দুটি ছবি ছিল। তার মধ্যে একটি চরিত্র পুলিশ অফিসারের। তাই সেটা ছাড়তে হয়েছিল। তা-ও এই ছবিটাই করার সিদ্ধান্ত নিই, কারণ কিছু ছবির বিষয়বস্তুই সবার ওপরে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ছবির বক্স অফিস, স্যাটেলাইট রাইট্‌সের আয়— সব কিছু ছাপিয়ে যায় গল্প। আর বাঙালি ভালো গল্প চায়। সেই গল্পের জোরেই এখনো মানুষ ‘ওগো বধূ..’-র কথা বলে, ‘ব্রহ্মা..’-র কথা বলে। তাই আমার মনে হয়েছিল, এই ছবিটা আমার ২৫ কেজি ওজন বাড়ানোর চেয়ে অনেক বড়।’


ঋতাভরী বলেন, ‘দুবার সার্জারির পর যখন আমার ওজন বাড়ে, আমি প্রথম বুঝি সমাজ কতটা নির্মম! ওই কয়েক মাস আমি এত খারাপ কথা শুনেছি যে রীতিমতো ভেঙে পড়েছিলাম। আসলে রোগা-মোটার কিছু গতে বাঁধা ধারণা আমাদের মনে এমন ভাবে ঢুকে গিয়েছে যে, মানুষ কোনটা ভালোর জন্য বলা আর কোনটা অপমান করা— সেটাই গুলিয়ে ফেলে।’

অভিনেত্রী বলেন, ‘তখন লোকে কত কথা শুনিয়েছিল। সবাই বলাবলি করত, কোনো কাজ না করে খালি ইনস্টাগ্রামের জন্য শুট করে। কিন্তু ইনস্টাগ্রাম কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে, সেটা পুরোপুরি না বুঝলেও আমি সে সময়ে বুঝেছিলাম, এটাই ভবিষ্যৎ। এটাই একমাত্র মাধ্যম যেখানে আমার নিজের কনটেন্টের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আর দেখুন, সেটা করেই এখন আমি লাখ লাখ টাকা উপার্জন করি। এটি ভাঙিয়েই আমি প্রচুর ছবি না করতে পারি। আমি এখনো পর্যন্ত যে যে ছবি করেছি, প্রত্যেকটা নিয়েই গর্ব করতে পারি। আর সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম বলেই এখন ফ্লপ ছবির পাহাড়ে বসে নেই।’

এর ভরসাতেই কী এতগুলো বছর টলিউ়ডে কোনো গডফাদার বা বড় প্রযোজনা সংস্থার ওপর নির্ভর না করেই কাটিয়ে দিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ঋতাভরী বলেন, ‘যখন ক্যারিয়ার শুরু করি তখন দেখতাম, সবারই কেউ না কেউ আছে। হয় মেন্টর, নয় গডফাদার, না হলে প্রেমিক বা স্বামী। তখন ছোট ছিলাম তো, আমারও মনে হতো, এগুলো না থাকলে বোধহয় পথটা খুব কঠিন। একটা কেউ থাকলে ভালোই হত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে সব সময় নিজের মতো চলেছি। কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, কেউ বলে দেওয়ার ছিল না। তবে এখন মনে হয়, ভালোই হয়েছে। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে যখন কাউকে লাগেনি, যখন নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করে প্রথম সারিতে থাকতে পেরেছি, তখন ভবিষ্যতেও পারব। যে হেতু পথটা সম্পূর্ণ নিজের, তাই আমার আগে-পেছনে কেউ নেই এবং জানি ১০ বছর পরও পারব। যদি সব সময় কারও ওপর ভরসা করে থাকতাম, তা হলে এখন এতটা আত্মবিশ্বাস পেতাম না।

আমাদেরকাগজ / এইচকে