নিজস্ব প্রাতিবেদক
বাংলাদেশী সিনেমা পাড়ায় জায়েদ খান এক আলোচিত নাম। তিনি সিনেমা থেকেও বেশি আলোচনা শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে। এতোদিন এফডিসিকেন্দ্রিক ব্যস্ততা থাকলেও এখন আর সে ব্যস্ততা নেই, এখন তাঁর নিজ গ্রামে ব্যস্ত সময় কাটছে ।
জায়েদ খানের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, জন্মস্থান পিরোজপুরে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন, পুকুরে মাছ ধরাসহ বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন এবং ঘুরে বেড়েচ্ছেন নিজ গ্রামে। এফডিসিকেন্দ্রিক জীবনের এমন সূচিতে আমূল বদল এনেছেন জায়েদ খান। শিল্পী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচনে নিপুণের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বিতর্ক আআইনি জটিলতায় আছে নায়ক। গত তিন মাসেরও বেশি সময় এফডিসিতে পা পড়েনি তার, দেখা যায়নি সিনেমার কোনও অনুষ্ঠানেও। খবর নেই নতুন কোনও সিনেমারও। তার সর্বশেষ ছবি ‘সোনার চর’-এর শুটিং হলেও শেষ হয়নি ডাবিং।
এক সময়ে এফডিসিতে ব্যস্ত সময় পার করা নায়ক এখন কেনো গ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছে! এ নিয়ে অনেকের মনে এ প্রশ্ন জেগেছে। তা হলে কি জায়েদ খান শিল্পী সমিতির পদ আর চান না? এর চেয়ে বড় কোন পদ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন, এ সম্ভানা আছে বলে অনেকেই মনে করছে। আর এ জন্যই জায়েদ খান এখন তাঁর গ্রামে সময় কাটাচ্ছে।
এসব গুঞ্জনের জবাবে জায়েদ খান বলেন, ‘‘আমি নির্বাচন করছি না। এসব গুজব। ২৭ দিন হলো বাড়িতে এসেছি। আজ (৯ অক্টোবর) বা কালকের মধ্যে ঢাকায় ফিরবো। ডাবিং বাকি আছে ‘সোনার চর’-এর। সেটা করবো। নতুন সিনেমার খবরও জানাবো। আমি গ্রামে চলে এসেছি, এটা শুনে অনেকেই হয়তো খুশি হয়েছেন। তাদের বলছি, খুশির কারণ নেই। আমি আসছি। আর যারা আমার গ্রামের সামাজিক কর্মকাণ্ড দেখে নির্বাচনের ভয় পেয়েছেন, তাদেরও বলছি, ভয়ের কারণ নেই। ইলেকশন আমি করছি না। করলেও সেটা ঢাকঢোল পিটিয়ে করবো। নির্বাচন তো লুকানোর কিছু না।’’
এই নায়ক আরও বলেন, ‘‘অনেক দিন বাড়ি আসা হয় না। আমার ভাইরাও ব্যস্ত। তাই এবার এসে বাবা-মায়ের ঘর-বাড়িটা গুছালাম। উনাদের কবরস্থান ঠিক করলাম। আমার একটা সংগঠন আছে ‘সাপোর্ট মানবকল্যাণ সংস্থা’। ওদের নিয়েও কিছু সামাজিক ও মানবিক কাজ করলাম এলাকায়। কারণ, আবার কবে বাড়ি আসবো তার তো ঠিক নেই। ফলে আমার গ্রামে আসা নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কারণ নেই। এফডিসিতে এখন আর যাওয়ার পরিবেশ নেই। আমরা যে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছিলাম, সেটি এখন আর নেই। এখন সেখানে ইউটিউবারসহ অনেক বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ। পরিবেশটা একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে। কারা তাদের এখানে আসার সুযোগ দিয়েছে, এটা এখন সবাই জানে। ফলে এই পরিবেশটা ঠিক না হলে তো সেখানে যাওয়া মুশকিল।’
প্রসঙ্গত, জায়েদ খান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে টানা দুই পর্বে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। তৃতীয় নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন ভোটের অঙ্কে। যদিও তার নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সেই ফলাফলটি এখন আদালতে গড়িয়েছে।
আমাদের কগজ//টিএ






















