মামলা ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির নির্বাচন। আজ (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে লড়বেন প্রযোজক ও নির্মাতা ইলা জাহান নদী। তার ভোটার নং-‘৩৫’।
ইতোমধ্যে প্রার্থীরা প্রযোজক সমিতির সদস্যদের কাছে ভোট চাইছেন। এছাড়া তাদেরকে দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। এই নির্বাচনে আলোচনায় এগিয়ে আছেন ইলা জাহান নদী। এই প্রসঙ্গে আজ কথা হয় প্রযোজক ও নির্মাতা ইলা জাহান নদীর সঙ্গে।
এই প্রথম প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তাতেই তো দেখছি আপনাকে নিয়ে রীতিমতো চারদিকে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, এটার সম্পর্কে যদি একটু বলেন।
ইলা জাহান নদী : আসলে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন বা করেননি সবার সাথেই সুসম্পর্ক বজায় বাখার চেস্টা করেছি, আর আমি একটু বিনোদন প্রিয় মানুষ, আমি যেখানেই যাই সেই আসর টা জমিয়ে রাখি এটাই হয়তো এই আলোচনার কারণ।
আমি নিজেও তো আজকে এফডিসিতে ঘুরে দেখলাম, অনেকেই তো বলাবলি করছে আপনি এবার সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়ী হবেন, কেমন লাগছে এত কম সময়ে সবার এতটা কাছাকাছি যেতে পেরে?
ইলা জাহান নদী : ঐ যে বললাম আমার মধ্যে এক ধরনের পাগলামি আছে সেটাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। আমি সিনেমার সাথে যুক্ত থাকতে চাই, হারি জিতি সিনেমার সাথেই থাকবো।
আপনি একজন প্রযোজক ও পরিচালক। এই ইন্ড্রাস্টিতে কতদিন আগে কেন কিভাবে আসলেন?
ইলা জাহান নদী : আসলে ভালবাসার যায়গা থেকেই চলচ্চিত্র আসা। আমি মনে করি চলচ্চিত্রই বিনোদনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ছোট্ট বেলায় মায়ের কোলে বসে প্রথম হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, ‘অবুঝ মন’ সেই থেকে সিনেমার প্রতি আমার ভাললাগা দিনে দিনে গ্রো করে। আমি একজন ফিজিশিয়ান, এ পেশায় আমি ভাল অবস্থান কাটিয়েছি। আমি তো ঐ লাফটাই বেছে নিতে পারতাম, তাছাড়া আমি ৪ বছর এনজিও তেও কাজ করেছি সেখানেও আমার একটা ভাল অবস্থান ছিল। সিনেমার প্রতি প্রেম ভালবাসার জন্যই জীবনের অনেক কিছুকে পাশ কাটিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসা।
আমি আগে গল্প লিখতাম, যখন আমার গল্প নিয়ে যখন অন্য ডিরেক্টররা কাজ করতেন তখন আমার খুব ভাল লাগতো, আবার কিছু জায়গায় দেখতাম আমি গল্পটা যেভাবে চিন্তা করেছি দৃশ্যধারনের সময় গল্পটা পরিবর্তন করে শুটিং করা হত। আমি পি এইচ ডি করছি সেটা এক কথা কিন্ত আমার এই জায়গায় কারিগরী জ্ঞান টা যেহেতু ছিলনা তাই আমার প্রথম সিনেমা টা আমি প্রযোজনা করলেও আমি ডিরেকশন টা দেই নি। আর আমি যেহেতু তিনটি প্রতিষ্ঠানে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টার হিসেবে আছি। এ সেক্টর টাতে আল্লাহর রহমতে মোটামুটি সফল। তাই এই যায়গাটায় কাজ করছি ১১-১২ বছর হয়ে গেলো।
এরপর তো নিজেই সিনেমা পরিচালনা শুরু করলাম। আমি আসলে জীবন ভিত্তিক গল্প নিয়ে কাজ করতে চাই, থাকে না কিছু গল্প যেটা দেখলেই মানুষের মানুষের মনে হবে। এটা তো আমার জীবনের গল্প বা পাশের বাড়ির মেয়ে বা ছেলের গল্প। এটাই আমার পছন্দের প্যাটার্ন। দুই-একটি গল্প নিয়ে যখন ২-১ জায়গায় সাড়া পেলাম না। তখন আম্মু আবারো হেল্প করল প্রযোজনায়।আমার আম্মু বেশ সাহসী। আর জমিদার পরিবারের নাতি হিসেবে আমি ছোটবেলা থেকেই বেশ একরোখা সাহসী আর স্বপ্নময়।
আপনার যে জোয়ার চলছে সেক্ষেত্রে বলাই যায় আপনি নিশ্চিত জয়ী হবেন! সেক্ষেত্রে জয়ী হবার পরে কি করবেন?
ইলা জাহান নদী : প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করবো যে এত কম সময়েও সবার এত ভালবাসা পাওয়ার জন্য। আমাদের সেনেমাপ্রেমী সিনিয়র মানুষদের পাশাপাশি থেকে আমি এর উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই। আমি চাই চলচ্চিত্র এ দেশের শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম হোক।




















