আন্তর্জাতিক ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৭

ইরানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধেই দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তারা দেশটির বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং ব্রিজে হামলার কারণে অনেক ইরানি চাকরি হারিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে জানিয়েছে, এই ৪০ দিনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এতে ইরানের ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। যা বাংলাদেশি অর্থে ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান।

ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে ইরানের ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। যারমধ্যে আছে ১ লাখ আবাসিক বাড়ি। যেগুলোর কিছু আংশিক এবং কিছু পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

এছাড়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে। এর পাশাপাশি হামলা হয়েছে ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি ইউনিটেও। হামলায় এগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

অপরদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঙ্গে রেডক্রসের ২০টি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়ে গেছে।

এগুলোর পাশাপাশি ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে। যারমধ্যে আছে পাঁচটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর এবং বেসামরিক বিমান।

বেসামরিকের পাশাপাশি ইরানের সামরিক অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিনি ও ইসরায়েলিদের হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র— খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ— এগুলোর পাশাপাশি ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: আল-আরাবিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করার প্রক্রিয়ায় ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে বিরোধী দল। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ সংশোধিত আকারে পাস এবং ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন না করায় ক্ষোভ জানিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী জোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

আলোচনার সূত্রপাত হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ নিয়ে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিশেষ কমিটিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পাসের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু বিলটি পাসের মাত্র ৩০ মিনিট আগে রহস্যজনকভাবে একটি সংশোধনী আনা হয়। 

সংশোধনীতে জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান হিসেবে বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে সংস্কৃতিমন্ত্রীকে রাখার প্রস্তাব করা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটি সরাসরি দলীয়করণের প্রতিফলন। আমরা চেয়েছিলাম সাহিত্য, ইতিহাস ও জাদুঘর বিশেষজ্ঞরা এটি পরিচালনা করবেন। এভাবে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা ভেঙে সংশোধনী আনা রাজনৈতিক জোচ্চুরি।’

বিরোধিতার জবাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এই সংশোধনী সরকার আনেনি, এটি একজন বেসরকারি সদস্যের (আনিসুর রহমান) প্রস্তাব। আর পর্ষদের প্রধান হিসেবে মন্ত্রী থাকা একটি সাধারণ রেওয়াজ; এটি দলীয়করণ নয়।’

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেকোনো সদস্য সংশোধনী আনতে পারেন। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যাতে পর্ষদের কেউ দুর্নীতি বা জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট-বিরোধী কাজ করলে তাকে অপসারণ করা যায়।’

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের এই অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আলোচনা ছাড়া শেষ মুহূর্তে সংশোধনী আনলে আস্থার সংকট তৈরি হয়। আজ রাত ১২টার মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল হিসেবে পাস না হলে সেগুলো তামাদি হয়ে যাবে। আপনারা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ (দুদক, মানবাধিকার কমিশন, তামাক নিয়ন্ত্রণ) আটকে রেখেছেন কেন?’

জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬টি অধ্যাদেশকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার জন্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এগুলো পরবর্তীতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করেই আনা হবে। তবে এতে বিরোধী দল আস্থা রাখতে পারেনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আস্থা হারিয়ে এখানে থাকা অর্থহীন। এখানে বিশ্বাস রক্ষা করা হয়নি। এই দুঃখ নিয়েই আমরা ওয়াকআউট করছি।’

এ সময় স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যদি ওয়াকআউট করার জন্য আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, মোস্ট ওয়েলকাম, নো প্রবলেম।’

বিরোধীদলীয় নেতা তখন বলেন, ‘এতে আরও দুঃখ পেলাম। প্রথম দিন আশা করেছিলাম, আপনিও বলেছিলেন যে জাস্টিস মেনটেন করবেন। আপনি অনেক করেছেন, কিন্তু আজকের এই সময়ে এসে জাস্টিস পেলাম না।’

স্পিকার বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ অ্যাসিউরেন্স করেছেন যে প্রত্যেকটি বিল আগামী সেশনে আসবে। আপনার প্রধান জিজ্ঞাসা তো এটাই ছিল?’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিশেষ কমিটিতে বিল আসা, বিশেষ কমিটির আশ্বাস, সবই তো উলটপালট হয়ে যাচ্ছে। উনারা বিশ্বাসের জায়গাটা রাখলেন না। আমরা সহযোগিতা করেই যাচ্ছিলাম। ঐকমত্য দেওয়া হয়েছিল যে আমরা আর কথা বলব না, আমরা হ্যাঁ-তেই ভোট দিয়ে চলব এবং চলেছি। কিন্তু এখন দেখছি আমাদের ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা কেন ব্ল্যাকআউট হব?’

স্পিকার বলেন, ‘আপনার প্রধান প্রশ্ন ছিল যে বিলগুলো এই অধিবেশনে ওঠেনি সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে?’ 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আপনি বলেছিলেন রাত ১২টা হলেও অধিবেশন কন্টিনিউ করবেন এবং সবগুলো আলোচনা হবে। সেটি হলে আমরা রাত ১২টা পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতাম। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে উত্থাপন করা হবে না; উনারা আস্থার জায়গাটি নষ্ট করে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে উনারা যখন আনবেন, তখন বেঁচে থাকলে অংশগ্রহণ করব।’

এরপর বিরোধী জোট ওয়াকআউট করে সংসদ থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সকল স্বৈরাচার-বিরোধী সংগ্রামের ইতিহাস এখানে সংরক্ষিত থাকবে। এটি কোনো দলের নয়, এটি জাতির সম্পদ।’