আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটের রানু এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সুরসম্রাজ্ঞী’। স্টেশনে গান গেয়ে ভিখাবৃত্তি করাই যার পেশা, তাঁর কণ্ঠে আপাতত মাতোয়ারা নেটিজেনদের আট থেকে আশি। ভিডিও ভাইরাল হতেই রাতারাতি তিনি তারকা হয়ে উঠেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গান শুনে শ্রোতাদের মন তো ভিজেইছে, ইতিমধ্যেই রানুর কাছে ডাক এসে গিয়েছে সুদূর মুম্বাই থেকেও। এবার বোধহয় অভাব অনটনের দিন ফুরল। ভাগ্যের চাবিকাঠি খুলে গেল রানুর। এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
সম্প্রতি এই ভিক্ষুক নারী লতা মঙ্গেশকরের ‘এক পেয়ার কি নাগমা’ গান গেয়ে সোশাল মিডিয়ার ‘সুরসম্রাজ্ঞী’র তকমা পেয়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রানুর গান শুনে ফোন আসছে সুদূর দিল্লি-মুম্বাই থেকেও।
ইতোমধ্যেই মুম্বাইয়ের এক টেলিভিশন চ্যানেল ফোন করে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ‘সুরসম্রাজ্ঞী’ রানুকে। দিল্লির একটি সমাজসেবী সংস্থা থেকেও যোগাযোগ করেছে তার সঙ্গে। কিন্তু যার দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জোগাড় হয় না, তার সঙ্গে কীভাবে এত দূর থেকে যোগাযোগ করা সম্ভব? ঠিক এখানেই এগিয়ে এসেছেন এক সহৃদয় ব্যক্তি। তিনি রানুর প্রতিবেশী তপন দাস। বাইরের রাজ্যগুলি থেকে তার মোবাইলেই ফোন আসছে। রানাঘাটের এই ‘সুরসম্রাজ্ঞী’র গান শুনে মুগ্ধ তারা। তাই তাদের কাজে ব্যবহার করতে চাইছেন রানুকে।
খ্যাতনামা সংস্থাগুলি থেকে ফোন আসছে তা অতি উত্তম। কিন্তু চাইলেই তো আর যাওয়া যায় না। রয়েছে কিছু বিধিনিষেধ। আর রানুর ক্ষেত্রে সেই সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পরিচয়পত্র না থাকায়।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, নতুন যারা যোগাযোগ করছেন তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি পরিচয়পত্র। রানুর কোনো পরিচয়পত্র না থাকায় বিমান বা দূরপাল্লার ট্রেনে টিকিট কাটা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এছাড়াও, কোনো সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে গেলে কিংবা তাদের সঙ্গে কাজ করতে হলে পরিচয়পত্র থাকা আবশ্যক। আর সেখানেই বিপত্তি। তবে বিডিও এবং এসডিপিও’র হস্তক্ষেপে রানুর এই সমস্যা কেটে যাবে বলেই মনে করেন রানাঘাটবাসীরা।




















