আন্তর্জাতিক ৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৪:২৪

ইরানে হিজাববিরোধী বিক্ষোভ: আরও ২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর 

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আমাদের কাগজ, আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের চলমান বিক্ষোভের তিন মাস পার হলো। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দেশটির নৈতিকতা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর হেফাজতে ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হয় এ বিক্ষোভ। শনিবার (৭ জানুয়ারি) দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, বিক্ষোভের সময় একজন আধাসামরিক বাহিনীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির। 

এর আগে ডিসেম্বরে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

দেশটির বিচার সম্পর্কিত বার্তা সংস্থা জানায়, ‘মুহাম্মদ মাহদি কারামি এবং সাইয়্যেদ মোহাম্মদ হোসেইনি প্রধান অপরাধী, যারা রুহুল্লাহ আজমিয়ানের হত্যায় দোষী সাব্যস্ত হয়, তাদের আজ সকালে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’

একবিংশ শতাব্দীর নারীরা নিজেদের অধিকার বিষয়ে বেশ সচেতন। আধুনিক সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা পুরুষদের পাশাপাশি সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সমাজ ভেদে নারীদের অধিকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সীমিত। অনেক সমাজে তাদের অধিকারকে অস্বীকার করতেও দেখা যায়।

ইরানের বর্তমান বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর নারী অধিকারের বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। নারীরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমে এসেছেন। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন এতে।

তেহরানের পশ্চিমে কারাজে নিহত ব্যক্তি বাসিজ মিলিশিয়ার সদস্য ছিলেন। যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের সঙ্গে যুক্ত। ২২ বছর বয়সী ইরানী নারী মাশা আমিনির সেপ্টেম্বরে হেফাজতে মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে দেশটি পুলিশ বাহিনী হাজার হাজার লোককে গ্রেপ্তার করেছে। 

বার্তসংস্থা এএফপি’র গণনা অনুসারে, প্রতিবাদ আন্দোলনের শুরু থেকে বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য দেশটির আদালত ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এর মধ্যে, চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, অন্য দুজনের সাজা সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ছয়টি নতুন বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অন্য দুজন আপিল করতে পারবে।

উল্লেখ্য,  আর এতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেখা গেছে নারীদের। ফলে দেশটিতে নারী অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশের নারীরা কি বৈষম্যের শিকার?

আমাদের কাগজ/এমটি