বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ১ আগস্ট, ২০১৯ ০৭:১৮

মনের কথা জানতে পারবে ফেসবুকের বানানো যন্ত্র!

মনে মনে আপনি হয়তো নিজের প্রেয়সীর কথা ভাবছেন অথবা ভাবছেন কোন পারিবারিক সমস্যার কথা, আর তা পড়ে ফেলছে মানুষের বানানো কোন যন্ত্র। বিশ্বাস হচ্ছে কি? এমন যন্ত্রের দেখা হয়ত আপনি স্পিলবার্গের চলচিত্রে দেখে থাকতে পারেন। বাস্তবেও যে তা সম্ভব হতে পারেকখনো  কিভেবে দেখেছেন?

তার এই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকেই ফেসবুকের গবেষকেরা বাস্তব রূপ দেওয়ার কথা ভাবছেন। তারা এমন এক যন্ত্র তৈরি করতে চান, যেখানে মস্তিষ্ক থেকে সরাসরি ডিভাইসে শব্দ চলে যাবে। লাগবে না টাচ স্ক্রিনে হাতের কোন স্পর্শ। এমন কি তা বার্তা হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে যেকোন ব্যাক্তিকে। গত মঙ্গলবার নতুন এক গবেষণার আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ফেসবুকের কর্মকর্তারা।

গবেষণার সাথে জড়িয়ে আছে ফেসবুকের অন্যান্য প্রকল্পগুলোও। এর মাঝে রয়েছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি সহ বিভিন্ন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি। বিভিন্ন প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যদি স্মার্ট ফোনের আর প্রয়োজন না হয়, সেক্ষেত্রে বাজারে সেগুলোর গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে। তাই ফেসবুক গবেষণাকে খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।

তাদের এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়, যোগাযোগের ক্ষেত্রে অগমেন্টেড রিয়েলিটির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এতে মানুষকে আর ল্যাপটপ, ফোন কিংবা বড় পর্দার কোন স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে হবে না। মানুষ একেবারে চোখে চোখ রেখে তার প্রয়োজনীয় তথ্য আদানপ্রদান করতে পারবে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে তাদের গবেষণা ল্যাব বিল্ডিং এর ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে কম্পিউটার ব্রেইন ইন্টারফেস নিয়ে কাজ চলছে। ওই সময়ে ফেসবুকের কম্পিউটার ব্রেইন ইন্টারফেস প্রকল্প প্রধান রেজিনা ডুগান বলেছিলেন, ফেসবুক একধরনেরসাইলেন্ট স্পিস সিস্টেমতৈরি করতে যাচ্ছে, যা মস্তিষ্ক থেকে সরাসরি মিনিটে ১০০ শব্দ টাইপ করতে পারবে। এটি একজন ফোনে যত শব্দ টাইপ করতে পারেন, তার চেয়ে দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হবে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে যদিও ধরনের কাল্পনিক প্রকল্পগুলো নিয়ে সব সময় মুখ বন্ধ রাখা হয়। এরই মধ্যে ফেসবুক তাদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় অনেকগুলো মামলা তাদের লড়তে হচ্ছে।

গত বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্বব্যাপী কম্পিউটিং প্রযুক্তির সাথে ব্রেইনের সংযোগ সাধনের জন্য বিভিন্ন কর্পোরেশন চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর মাঝে রয়েছে প্রযুক্তি উদ্ভাবক এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অপেক্ষা, কে মানবজাতিকে সর্বপ্রথম ব্রেইন ইন্টারফেস কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে সফলতা এনে দেবে?