ডেস্ক রিপোর্ট
হেলমেট ব্যবহার না করার কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে মাঠে নেমেছে নওগাঁ জেলা প্রশাসন। তাদের এ কাজে সহযোগিতা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। ২০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ‘নো হেলমেট, নো বাইক’ স্লোগানে মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে সচেতন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে যেসব মোটরসাইকেল চালক-আরোহী হেলমেট ব্যবহার করছেন, তাদের ফুল উপহার দেয়া হচ্ছে। আর যারা হেলমেট ব্যবহার করছেন না, তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এ মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ কর্মসূচির প্রথম সপ্তাহ মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে সচেতন করা হয়। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চালক ও আরোহীদের ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগের কারণে স্থানীয় মোটরসাইকেল পার্টসের দোকান ও হেলমেটের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে জরিমানা থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই সস্তায় নিম্নমানের হেলমেট কিনছেন।
বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধি আসফাক হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সব থেকে বেশি আঘাত মাথায় লাগে। সেক্ষেত্রে মাথায় যদি হেলমেট থাকে, তাহলে অনেকটাই নিরাপদ। কয়েকদিন আগে আমার এক সহকর্মী সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান। প্রশাসনের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
শহরের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বাবলু ও আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, প্রশাসন আমাদের প্রাথমিকভাবে হেলমেট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে। এরপর নামমাত্র টাকা জরিমানা করছে। টাকা মূল বিষয় নয়, বেঁচে থাকাই হচ্ছে মূল বিষয়। তাই হেলমেটের কোনো বিকল্প নেই।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ বলেন, শততম মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে ‘নওগাঁকে নিরাপদ শহরের সড়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশির ভাগই মারা যান মাথায় আঘাত পেয়ে। যদি হেলমেট ব্যবহার করা হয়, তাহলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসবে। এজন্য আমরা মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই।
নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন বলেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে আমাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘নো হেলমেট, নো বাইক’। দূর বা কাছে যেখানেই যান না কেন নিজে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে এবং অন্যকে হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।




















