ডেস্ক রিপোর্ট ।।
রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়ার আমতলা এলাকায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবৈধ ১ হাজার ৮০০ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। এছাড়া ট্রেস কোয়ালিটি নামক একটি শিল্প কারখানার গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সোমবার (৪ নভেম্বর) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে। দুদক টিমের পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে সাভারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে ১ হাজার ৮০০ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এর আগে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে অভিযোগ আসে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তথা ঠিকাদার ও স্থানীয় দালালরা প্রতিটি শিল্প কারখানা ও বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অবৈধ সংযোগ দিচ্ছেন।
এদিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় রাস্তার মেরামত কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনার সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
সরেজমিন অভিযানে উল্লিখিত সড়কের কার্পেটিং না করেই ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগের প্রমাণ পায় দুদক টিম। পরে অবিলম্বে ওই কাজ সম্পন্ন করে অবহিত করার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করে দুদক টিম।
এছাড়া নোয়াখালী সদর উপজেলার মাদারতলী গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (টোল ফ্রি হটলাইন-১০৬) আগত এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সরেজমিনে দুদক টিম দেখে কালাদরপ ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান প্রত্যেক সংযোগপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করে সংযোগ প্রদান করছেন। এ বিষয়ে দুদক সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এজিএমের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এ অনিয়মের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে টিম।
চুয়াডাঙ্গা বিআরটিএ অফিসে বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। ওই দফতরে যেকোনো সেবা গ্রহণে সরাসরি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার কোনো সুযোগ পাওয়া যায় না, বরং দালালদের উপঢৌকন প্রদানের মাধ্যমেই সেবা গ্রহণ করতে হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়া উপ-পরিচালক মো. জাকারিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। সরেজমিন অভিযানে দুদক টিম তিনজন দালালকে অবৈধ অর্থ লেনদেনরত অবস্থায় পায়। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া দফতরে প্রাপ্ত অনিয়মসমূহ দূরীকরণে সহকারী পরিচালককে পরামর্শ দেয় দুদক টিম।
এছাড়া নোয়াখালী, নড়াইল ও পাবনায় রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না থেকে চিকিৎসা প্রদানে অবহেলার অভিযোগে যথাক্রমে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোর এবং সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনায় চারটি পৃথক এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালায়।





















