সারাদেশ ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:২৮

করোনাকালেও সুন্দরবন থেকে ২০০ টন মধু সংগ্রহ

ডেস্ক রিপোর্ট

করোনাকালীন সময়েও কোনো প্রভাব পড়েনি সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে চলতি বছর সংগ্রহ হয়েছে ২০০ টন মধু এছাড়া মোম সংগ্রহ হয়েছে ৬০ টন আহরিত এসব মধু মোমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২১ লাখ টাকা

আহরিত মধুর মধ্যে রয়েছে খলিশা, বাইন গরান ফুলের মধু সুন্দরবন থেকে আহরিত এসব মধু এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বাজারে

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্চের বুড়িগোয়ালীনী ফরেস্ট স্টেশনের এসও সুলতান আহম্মেদ জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে মধু সংগ্রহ হয়েছে ২০০.৬৫ টন এছাড়া মোম সংগ্রহ হয়েছে ৬০.১৯৫ টন মধুতে সরকার রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ লাখ চার হাজার ৮৭৫ টাকা মোমে রাজস্ব আদায় হয়েছে লাখ এক হাজার ৯৫০ টাকা মধু মোমে রাজস্ব মোট আদায় হয়েছে ২১ লাখ হাজার ৮২৫ টাকা

তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে ১৫ জুন সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের মৌসুম বছর বন বিভাগ থেকে পাস নিয়ে মধু সংগ্রহ করতে ৫৭৩টি বোটে ৪০১৩ জন মৌয়াল সুন্দরবনে প্রবেশ করে

কষ্ট পরিশ্রম করে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করলেও তার প্রকৃত মুনাফা ভোগ করতে পারেন না মৌয়ালরা

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের মৌয়াল আব্দুর রশিদ জানান, মহাজনের কাছ থেকে লাখ টাকা সুদে ঋণ নিয়ে নৌকা ভাড়া করে আমরা একটি দল বনে প্রবেশ করি এরপর সুন্দরবন থেকে আহরিত মধু পাইকারিতে কিনে নেন মহাজন

মহাজন প্রতি কেজি খলিশা ফুলের মধুর দাম দেয় ৩৫০-৩৮০ টাকা আর বাইন, গিবো গরান ফুলের মধুর দাম দেয় ৩০০-৩৫০ টাকা অথচ এই মধু বাজারে বিক্রি হয় ৭০০-৮০০ কিংবা হাজার টাকা কেজিতে

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার বনজীবী রয়েছেন এদের মধ্যে মৌয়াল রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহে কোনো প্রভাব পড়েনি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করেই মৌয়ালদের সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের জন্য প্রবেশ অনুমতি দেওয়া হয়

তাছাড়া সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বছর কোনো মৌয়ালের বাঘের আক্রমণ বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি তবে মাছ ধরতে গিয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্চে পাঁচজন জেলে পানিতে ডুবে বা স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন বলে জানান তিনি

সাতক্ষীরা জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা সালেহ মো. আব্দুল্লাহ্ বলেন, সুন্দরবন থেকে মধু মোম সংগ্রহরের পর বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলো ক্রয় করে নেয় তাছাড়া খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতেও কিছু চলে যায়

সরকারিভাবে মধুর কোনো দাম নির্ধারণ করা নেই যার কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম নির্ধারণ করে মধু সংগ্রহ বিক্রয় করেন তাছাড়া সব ব্যবসায়ীরাই তাদের মধু সুন্দরবনের খাঁটি মধু বলে দাবি করেন বলে যোগ করেন কর্মকর্তা

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে মধু পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থাও নেই একমাত্র ঢাকাতে বিএসটিআই মধু পরীক্ষা করতে পারে তবে খাঁটি মধু দীর্ঘদিন ভালো থাকে আর ভেজাল মধু কয়েক মাস পর নষ্ট হয়ে যায় রাখার পাত্রের নিচে জমাট বাঁধে তখন দেখলে বোঝা যায় এটি ভেজাল মধু