রাজনীতি ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৭

মুক্তিযুদ্ধে শেখ হাসিনার পরিবারের কোনও অবদান নেই: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক ‘মুক্তিযুদ্ধে শেখ হাসিনার পরিবারের কোনও অবদান নেই। না তার বাবার, না তার নিজের। সেই সময় পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা ঢাকায় অবস্থান করেছেন।’ মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব হবেন কেমির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব হবেন কে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থান তার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া কেন সন্তান ও জনগণকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ প্রেমকে আঁকড়ে ধরেছেন, কেন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তা বরদাশত করতে পারেননি। তাই এই পরিবারটির প্রতি একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। যখন বেগম জিয়াকে বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল, ঠিক সে সময়েই তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।” রিজভী বলেন, “আরাফাত রহমান কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। সে রোগেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। মৃত্যুর আগেও তার তার বন্দিনী মাকে বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়। তার চোখে গোল মরিচের স্প্রে নিক্ষেপ করা হয়। সেই সময় আপন সন্তানের লাশ তাকে কোলে নিতে হয়েছে। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা কোনও মহাকাব্যে লেখা আছে কিনা বা পৃথিবীর কোনও বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে মিল আছে কিনা জানা নেই। সমস্ত ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে সেই ঘটনা।” সেটা সম্পূর্ণ রূপে ছিল ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি একটি পরিবারকে নানাভাবে পর্যুদস্তু করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি দাবি করেন, “মূলত বেগম খালেদা জিয়ার যে উপস্থিতি ও তার যে জনপ্রিয়তা তা মুছে দেওয়ার জন্য এমন কোনও কাজ নেই যা শেখ হাসিনা করেননি। তিনি জিয়া পরিবারের প্রতি কলঙ্ক লেপন ও মিথ্যাচার করেছেন। যার একটিও তিনি প্রমাণ করতে পারেননি। শেখ হাসিনা তার একচ্ছত্র ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এমনটি করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আরেকটি রাজনৈতিক ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে পতিত স্বৈরাচার সরকারকে সুবিধা দেয়ার অপচেষ্টা করছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার চেষ্টা করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ছাত্র সংগঠন দাঁড়িপাল্লা দিয়ে একাত্তরের চেয়ে চব্বিশকে বড় দেখাতে চেয়েছে।” তবে কোনওভাবেই মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করার সুযোগ নেই, স্বাধীনতাবিরোধী কোনও শক্তিকে দেশের জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি স্বৈরাচার আমলের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “সন্তান হারানোর এক অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হলেও বিএনপি পিছু হটেনি। রাজপথে থেকে শত নির্যাতনের মুখেও টিকে ছিল দলটি।” তিনি আরও বলেন, “আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও তাকেও নির্যাতিত হতে হয়।” এসময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।