রাজনীতি ৩ জুলাই, ২০২৩ ০৮:১৯

শরিকদের আসনে আওয়ামী লীগ নেতাদের চোখ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শরিকদের আসনে নজর এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের। গত নির্বাচনে জোটের স্বার্থে এসব আসন শরিকদের ছেড়ে দিতে হয়েছিল। তখন দল থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার। তাই এবার এসব আসনে আওয়ামী লীগের নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা নির্বাচনী এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। নিয়মিত গণসংযোগের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

তাদের বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছি। এখন নিয়মিত গণসংযোগ করছি। গতবার দলের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে মনোনয়ন দেয়া হবে এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। আমরা সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এসেছি। আশা করি এবারের নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে আমাদের মূল্যায়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করা সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত ময়মনসিংহ-৮ আসনের (ঈশ্বরগঞ্জ) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের আসনে এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি ও ইউনিমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন লুৎফুল গণি টিটু। মানবজমিনকে তিনি জানান, আগামী নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে হলেও কোন আসনে কাকে দেয়া হবে তা ঠিক হয়নি। তাই দলের পক্ষ থেকে আমাদের নির্বাচনী এলাকায় কাজ করতে বলা হয়েছে। আমি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করছি। দলের সব কর্মসূচি পালন করে চলেছি। 

তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমার এ তৎপরতা মূল্যায়ন করা হবে বলে বিশ্বাস করি। প্রায় একই মন্তব্য করেন ঢাকা, কুষ্টিয়া ও চট্টগ্রামে শরিকদের অধীনে থাকা আসনসমূহে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নির্বাচনের এখনো বেশ কয়েক মাস বাকি। আসন নিয়ে দলের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনা হবে- এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় দল। এখানে মনোনয়ন পাওয়ার মতো যোগ্য নেতা রয়েছেন অনেক। দলের জন্য তারা সবাই কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কিছু হিসাব-নিকাশ থাকে। দল সেসব সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে। শেষ পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা সবাই মেনে নিয়ে নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। অতীতেও আওয়ামী লীগে এ ধরনের বহু উদাহরণ রয়েছে। 

দলীয় নেতারা জানান, নির্বাচন ঘিরে নানামুখী চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে শরিকদের আসন অন্যতম একটি ইস্যু। তাই এ নিয়ে নির্বাচনের শেষ দিকে এসে দলীয় কোন্দল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে দলের হাইকমান্ড। এরই মধ্যে বিষয়টি দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতারা। তারা তাদের রিপোর্টে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা। মূলত শরিকদের আসনে এমপি পদে থাকা নেতাদের সঙ্গে এমপি পদ পেতে ইচ্ছুক নেতাদের মধ্যে বিরোধটা বেশি। কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বার বার সতর্ক করা হলেও ইতিবাচক কোনো ফল আসছে না। 

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ২৯টি আসন ছেড়ে দেয়া হয় এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিকে। এর বাইরে আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনে শরিকদের যেসব আসন ছেড়ে দেয় তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো- জাসদ (ইনু) ৩টি আসন, জাসদ (আম্বিয়া) ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৫টি, জেপি মঞ্জু ১টি ও তরিকত ফেডারেশন ২টি আসন। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়া-২ আসনে, সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার ফেনী-১ আসনে ও রেজাউল করিম তানসেনকে বগুড়া-৫ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। জাসদের অন্য অংশের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়াকে নড়াইল-১ (কালিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই আসনেই আগের দিন দলীয় মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র পান বি এম কবিরুল হক মুক্তি। আম্বিয়ার পর তাদের দল থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়নপত্র নেন প্রয়াত মাঈনুদ্দিন খান বাদল। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ঢাকা-৮ আসনে, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হাসেন বাদশা রাজশাহী-২ আসনে, মোস্তফা লুৎফুল্লাহ সাতক্ষীরা-১ আসনে, টিপু সুলতান বরিশাল-৩ আসনে, ইউনুস আলী ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মনোনয়ন পান। ত?রিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভাণ্ডারিকে চট্টগ্রাম-২ আসন দেয়া হয়। একটি আসন পান জাতীয় পার্টি (জেপি) দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ আসনে। এসব আসনে এখন আওয়ামী লীগের নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেতে। এদিকে আগামী নির্বাচন নিয়ে এরইমধ্যে বেশ কয়েকবার দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সর্বশেষ দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনি বলেন, আপনারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব কমান ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করুন। আপনারা যদি মনে করেন যে, ঢাকায় থেকেই দলীয় টিকিট পাবেন এবং বিজয়ী হবেন, তাহলে ভুল করবেন। কারণ আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও কঠিন হবে।