নিজস্ব প্রতিবেদক:
খালেদা জিয়া কখনও আত্মসমর্পণ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার(০৬ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন,‘খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একটি নাম। রাজনীতিতে তার অবদান অনেক সময় ধরে। তিনি দুঃখ-কষ্ট সহ্য করলেও কখনও আত্মসমর্পণ করেননি। দেশ ছেড়ে গেছেন—এমন নজির নেই। সবকিছু ছাপিয়ে তিনি মহীয়ান ও জাতীয় জীবনের বাতিঘর। তিনি জীবন বাজি রেখে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
‘ওয়ান-ইলেভেনে একজন নেত্রী দেশ ছেড়ে গিয়েছিল; কিন্তু খালেদা জিয়া তা করেননি। আত্মসমর্পণ না করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে কীভাবে আপসহীন নেতৃত্ব দিতে হয়, তার নাম খালেদা জিয়া। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।’
রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রকে স্বৈরতন্ত্রে রূপান্তরের জনক হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার কাছে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বড় নয়। উনার কাছে সোনার হরিণ ক্ষমতা সবচেয়ে বড়। আজকে তার কাছে সবচেয়ে ঘৃণার বস্তু হচ্ছে নির্বাচন।’
রিজভী আরও বলেন, ‘আজকে দেশে কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত পরশু রাতে সোনিয়া নামের মহিলা দল নেত্রীকে রাজবাড়ী থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। সে দিনের বেলা গ্রেপ্তারের দাবি জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক তাকে অমানবিক ও বর্বরোচিতভাবে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি নাকি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘তিনি জানেন যে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি হবে। সে জন্যই তিনি কুইক রেন্টালের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুরির সুযোগ দিতে ইনডেমনিটি আইন করেছেন। আজকে গোটা দেশে চোর গিজগিজ করছে।’
‘নারী ফুটবলার কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহারের ব্যাগ থেকে ডলার চুরি হলো। বাংলা একাডেমি থেকে বিদেশি রাষ্ট্রদূতের স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একজন ছাত্রলীগ নেতা ছাগল চুরি করে পিকনিক করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে। আজকে চোরের কবলে দেশ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে।’
গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও আবদুল্লাহ আল নাইমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন মেহেদী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ইসমাইল চৌধুরী খোকন, কাদের সিদ্দিকী ও ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
আমাদের কাগজ//জেডআই





















