নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিসার মেয়াদের ভিত্তিতে টোকেন দেওয়ার দাবিতে আজ কারওয়ান বাজারে সড়ক অবরোধ করেছেন সৌদিপ্রবাসী টিকিট প্রত্যাশীরা। এ সময় তারা সোনারগাঁ হোটেলের ফটক ভেঙে ঢুকে পড়েছে এখানে থাকা সৌদি এয়ারলাইনসের কার্যালয়ের সামনে। বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিকেল তিনটা পর্যন্ত সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে তাদের ভিড় করতে দেখা গেছে।
কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার সকাল থেকে আবার সৌদি আরবে যাওয়ার উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রি জন্য টোকেন দেওয়া শুরু করেছেন সৌদি এয়ারলাইনস। এ জন্য ভোর থেকেই সোনারগাঁ হোটেলের সামনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ভিড় ছিল।
সকাল ১০টার দিকে প্রবাসীরা ভিসার মেয়াদের ভিত্তিতে টোকেন দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে এখানে হট্টগোল শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও শত শত মানুষ ভিড় করে আছে কার্যালয়ের সামনে।
সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি আরব থেকে লকডাউনের আগে যারা সাউদিয়ার রিটার্ন টিকিট নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন শুধুমাত্র তাদেরই টোকেন দেওয়া হবে। টোকেন অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে তারা টিকিট কিনতে পারবেন। সে অনুযায়ী সৌদি এয়ারলাইন্স আজ মোট ৪৫০ জনকে টোকেন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আর এ ঘোষণার কথা জেনে সৌদি প্রবাসীরা ভিড় করেছেন সৌদি এয়ারলাইন্সের সামনে। যার ফলে ভিড় সামাল দিতে অনেকটাই বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টিকিট প্রত্যাশীরা সকাল থেকে ভিড় করেছেন সৌদি এয়ারলাইন্সের সামনে। তাদের সামাল দিতে গিয়ে অনেক বার পুলিশের সাথে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এমনকি হোটেলের সোনারগাঁয়ের পাশের রাস্তায় তারা যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। শ্লোগানে-শ্লোগানে তারা তাদের দাবির কথা জানান। এ সময় কারওয়ানবাজার ও আশপাশের এলাকা কিছুটা জটলা তৈরি হয়।
মামুন হোসেন নামে সৌদি প্রবাসী বলেন, আমি সুনামগঞ্জ থেকে এখানে প্রায় সাতদিন ধরে আছি। রাস্তায় ঘুমাচ্ছি। আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি এক হাজার ডলার দিয়ে কফিলের সাথে কথা কথা বলে মেয়াদ বাড়িয়েছি। আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই দফায় টিকিট না পেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।
ভিসার মেয়াদ কতদিন আছে এবং টোকেন পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে সৌদি প্রবাসী মিজান মিয়া বলেন, জমিজমা বিক্রি করে আমি বিদেশ গিয়েছিলাম। আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কফিলকে ২ হাজার রিয়াল দিয়ে মেয়াদ বাড়িয়েছিলাম। আত্নীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে কফিলকে টাকা দিয়েছি। কিন্তু ৬ অক্টোবর আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এখন আমি যদি টিকিট না পাই তাহলে আমি ধার দেনার টাকার পরিশোধ করবো কীভাবে।
সৌদির আল শোভা শহরে বসবাসকারী মোহাম্মদ আতিউর রহমান আমাদের কাগজকে বলেন, আজ ছয় মাস যাবত আমি বাড়ি। ছেলেমেয়েদের তিন বেলা খানাপিনা দিতে পারছি না। আমি খুব অসহায় অবস্থায় আছি। হোটেলে থাকার মত অবস্থা আমার নেই। কোনো আতœীয়-স্বজনের কাছে গেলে কথা বলতে চায় না। তারা মনে করে টাকা ধার করতে আসছি। এ সময় তিনি তাদের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে সরকারকে দ্রত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।


















