জাতীয় ১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০৮:২০

১০ বছরেও ইন্টারপোল সন্ধান পায়নি বঙ্গবন্ধুর ৪ খুনির

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জাতির পিতার খুনিদের মধ্যে পলাতক ছয়জনকে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও ১০ বছর পার হয়ে গেলেও পলাতক এই ছয়জনের মাত্র ২ জনের সন্ধান বের করতে পারলেও এখন পর্যন্ত বাকী ৪জন কে কোন দেশে পালিয়ে রয়েছেন, সবার সেই তথ্য এখনও জোগাড় করতে পারেনি ইন্টারপোল।

জাতির পিতার খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষে ২০০৯ সালে ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিস জারি করা হয়। যা  ১০ বছরে ২ বার নবায়নও করা হচ্ছে।

এই ছয়জনের মধ্যে রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)’র সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা মহিউল আলম।

এবিষয়ে তিনি জানান, নূর চৌধুরীর কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের অবস্থান কোথায়, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, নূর চৌধুরী কানাডায় থাকলেও ফাঁসির আসামি বলে তাকে ফেরত দিতে অনীহা দেখিয়ে আসছে দেশটির সরকার; যদিও তাকে ফেরত পেতে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। আর রাশেদ চৌধুরীর ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ তাকে ফেরত চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র তা এড়িয়ে যাচ্ছে বারবার।

মহিউল আলম জানান,সম্প্রতি থাইল্যান্ডে এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে বলেন রাশেদ চৌধুরীর বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না করতে। তখন পম্পেও উল্টো জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ কাকে চায় রাশেদ চৌধুরী না কি ডেভিড ওয়াটসনকে। অর্থাৎ রাশেদ চৌধুরী নাম পাল্টেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে থাকতে পারেন।

মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিনের ব্যাপারে এনসিবি’র কর্মকর্তা মহিউল জানান, সর্বশেষ এই দুজনের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানে বলে শোনা যাচ্ছিল। তখন দুই দেশকে চিঠিও দেওয়া হয়।

“ভারত জবাবে বলেছে, তাদের দেশে নেই। পাকিস্তান কোনো জবাব না দেওয়ায় রিমাইন্ডার দেওয়ার পরও কোনো উত্তর মেলেনি। ফলে তাদের অবস্থান এখনও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।”

রশিদ ও ডালিমের অবস্থানের বিষয়েও স্পষষ্ট তথ্য নেই।

মহিউল বলেন, “রশিদের ব্যাপারে সম্ভাব্য যে সব দেশের নাম শোনা যাচ্ছে, তা হচ্ছে ফ্রান্স, ইতালি, লিবিয়া, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। আর ডালিম চীন, ইংল্যান্ড, হংকং, কেনিয়া, লিবিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে কোনো এক দেশে আছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।”

প্রতিটি দেশে চিঠি পাঠিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলেও তার কোনো জবাব এখনও মেলেনি বলে জানান এই কর্মকর্তা।